বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ ডেস্ক। ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বা গ্রিনকার্ডধারী অভিবাসীদের দেশটিতে আত্মীয়-স্বজন নেওয়া বন্ধ হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ছাড়া অন্য কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনকে ভিসা প্রদানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং বার্ষিক ৫০ হাজার শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়দানের বিধি সীমিত করতে মার্কিন কংগ্রেসে বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন এবং জর্জিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর ডেভিড পারডিউ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি প্রদানের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং ডিভি লটারি একেবারে বিলুপ্তিরও প্রস্তাব রয়েছে। অভিবাসীবিরোধী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসে বিলটি পাস এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিল পাসে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিবাসীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষ করে সিলেটের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের পরিবারের জন্য এ আইন একটি বিরাচ ধাক্কা।

সিনেটর টম কটন বিল উপস্থাপনকালে বলেন, যখনই কেউ ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন, তখনই গ্রিনকার্ড হাতে পান। এর পরই স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা এবং সেই সূত্রে
ঘনিষ্ঠ সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রচেষ্টা চালান। আমি মনে করি এমন ব্যবস্থা বৈধভাবে হলেও তা আমেরিকান শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য কোনোভাবেই শুভ নয়।

এদিকে এ বিলকে সমালোচনা করে ইমিগ্রেশন লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টারের অ্যাটর্নি মার্ক সিলভারম্যান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সারা যুক্তরাষ্ট্রে যখন তুমুল বিক্ষোভের পাশাপাশি আইনগত লড়াই চলছে, তেমনি সময়ে এ বিল গোটা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করল। তিনি আরও বলেন, এমন অ-আমেরিকান কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে একদিন হয়তো ওরা স্ট্যাচু অব লিবার্টিও উচ্ছেদ করবে। নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের সবকিছু কেড়ে নিতে চাইবে।

ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা বলছেন, পারিবারিক কোটায় আত্মীয়-স্বজনকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ধীরগতি শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সিনেটের এ বিল পাস হলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ এশিয়ান, স্প্যানিশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের লোকজনের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসতির প্রত্যাশা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

ইউএস সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং ইমিগ্রেশন বিষয়ক অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার রিপাবলিকানদের এ কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেও অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার বলেন, অমানবিক আচরণের স্থায়িত্ব খুবই স্বল্প। ট্রাম্পসহ রিপাবলিকানরা যা করছেন, তার অবসান খুব দ্রুত ঘটবে প্রকৃতির নিয়মেই।