যুক্তরাজ্যে নিরাপদ সড়ক চাই নিসচা’র ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জুম ভিডিও কলের মাধ্যমে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১লা ডিসেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় এ উপলক্ষে আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি সেলিম আহমদ চৌধুরী।

সাধারণ সম্পাদক মুহিব উদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম। এসময় তিনি নিরাপদ সড়ক চাই এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে অভিনন্দন জানান। সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা যাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি তিনি হচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কাজ করছেন এবং আশা করি ভবিষ্যতও সরকারের সাথে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। নিরাপদ সড়ক চাই’র বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, চেষ্টা করব নিরাপদ সড়ক চাই এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের জন্য বৈদেশিক কোন অর্থ সাহায্য পাওয়া যায় কিনা। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও মতামত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। এসময় তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর আমরা পূর্ণ করতে যাব। এই ৫০ বছরে নিরাপদ সড়ক চাই ২৭ বছর পূর্ণ হলো। ২৫ বছর আমরা পাকিস্তানের যাঁতাকলে ছিলাম। নয় মাস যুদ্ধ করে ২৫ বছরের কষ্ট থেকে আমরা বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু ২৭ বছরে এখনো আমরা সড়ককে দুর্ঘটনামুক্ত করতে পারলাম না। ইলিয়াস কাঞ্চন প্রশ্ন রেখে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ কি আমাদের জন্য কঠিন, নাকি সড়ককে দুর্ঘটনামুক্ত করা কঠিন? বাধাটা কোথায়, কেন সড়ককে নিরাপদ করতে পারছিনা? ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ককে নিরাপদ করতে প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা সবাই যেনো একতাবদ্ধ হয়ে সরকারের নিকট দাবী অব্যাহত রাখতে পারি সেই লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি্র বক্তব্যে প্রবীণ রাজনীতিবিদ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেন, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন,পলিটিক্স কার জন্য? মানুষের জন্য, মানুষের জীবন না থাকলে পলিটিক্স কার জন্য। আমরা যদি ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করি তাহলে সড়ক সমস্যার অনেক সমাধান সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন ইলিয়াস কাঞ্চনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ফসল আজকের সড়ক আইন। তিনি বলেন, এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ যাতে হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সংগঠক নঈম উদ্দিন রিয়াজ বলেন, সড়ক ব্যবহারে আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। নিরাপদ সড়ক চাই এর সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে নইমুদ্দিন রিয়াজ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ সেন্টার ইউকের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান মহিব বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছর কাঞ্চন সড়ক নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আশা করি এই আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন যতদিন প্রয়োজন থাকবে এবং তার কার্যক্রমে আমাদের অবশ্যই সহযোগিতা থাকবে।

বিশেষ অতিথি নিসচা যুক্তরাজ্যের উপদেষ্টা, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন এবং নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট সবাই যেভাবে দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন আমি সবাইকে ধন্যবাদ এবং সাধুবাদ জানাই এবং আশা করি জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন এই মহৎ কাজ অব্যাহত রাখবেন ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী নিসচা ইউকের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল আহাদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই দেশের মানুষকে সঠিকভাবে সড়ক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে এবং আগামীতে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এসএসবিএ’র চেয়ারম্যান ও মরহুম ‘পীর হাবিবুর রহমান ফাউন্ডেশন’ ইউকের সভাপতি আজিজ চৌধুরী ইলিয়াস কাঞ্চনের কাজের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সর্ব শ্রেণীর মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই যুক্তরাজ্যের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ কাউন্সিলর ফারুক মাহফুজ আহমেদ, জামাল আহমেদ খান, মুন কুরেশি, ইসলাম উদ্দিন , চৌধুরী, সেলিনা আক্তার জোসনা, আনসার আলী, সোহেল আহমেদ, নুরুল হক, তায়েফ সরোয়ার, মোহাম্মদ আলী, আনসার মিয়া, আশিক বক্স, সালেহ আহমদ, হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জাতের ধান