মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিকযুক্ত মৌসুমী ফল। মৌসুমী ফলের বড়ো বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে শুরু করে সদর উপজেলা, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিকযুক্ত বিভিন্ন মৌসুমী ফল। এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন এবং জটিল রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

রমজান মাসে বাজারে প্রচুর ফল উঠলেও ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান না থাকায় রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত এসব ফল খেয়ে অনেকেই, বিশেষ করে শিশুরা নানা রোগে জটিল আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু ফলে রাসায়নিক পরীক্ষার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এসব উপজেলায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। লোক দেখানো দু’একটি ছাড়া জেলার কোথাও রমজানে ভেজাল রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত না হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সচেতনমহলে। বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি তথা ইউএনও এ উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জোরালোভাবে কোথাও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিক মিশ্রিত ফল। আমের পচন ঠেকাতে কার্বাইডসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক প্রয়োগ করে ব্যবসায়ীরা। ফলে ক্রেতারা বাড়তি পুষ্টির আশায় প্রতিদিন আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, মাল্টা, আনারস, কলাসহ বিভিন্ন ধরণের ফল কিনছেন। এসব ফল গাছ পাকা নয়, ফরমালিন নামের বিষ মিশিয়ে বিক্রয় করা হচ্ছে। যাতে ফলে পচন না ধরে সেজন্য মেশানো হয় মানবদেহের ক্যান্সারবাহী বিষাক্ত  কেমিক্যাল। ফলে ‘ফরমালিন’ আতংকে অনেকেই ফল কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না। আবার অনেকেই না জেনে ও না বুঝে এসব ফল খেয়ে নানা ধরণের রোগে ভোগে অসুস্থ হচ্ছেন।
বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারে ফল কিনতে আসা শিক্ষক এমএ হাসান ও শ্রীমঙ্গলে ফল কিনতে যাওয়া ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম জানান, কোন ফলে ফরমালিন আছে আমরা তো জানি না। প্রশাসন প্রতিনিয়ত যদি বাজার মনিটরিং করতো, তাহলে আর ভেজাল কোনো পণ্য বাজারে বিক্রয় হতো না। আমাদেরও কোনো ফরমালিনযুক্ত ফলমূল কিনতে হতো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ফলে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি আছে কিনা তা পরিমাপের কোনো যন্ত্র আমাদের নেই। ফলে বাজারে যেসব ফল বিক্রি হচ্ছে তা ভেজালমুক্ত কি-না তা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্যে সব উপজেলার ইউএনওগণকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।