বিয়ানীবাজারে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বয়স চুরির অভিযোগ উঠেছে মোল্লাপুর ইউনিয়ন দলের বিপক্ষে। মাথিউরা ইউনিয়ন দলের পক্ষ থেকে বয়স চুরি দায়ে অভিযোগ দাখিলের পর এবার প্রমাণ দাখিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কাছে এ প্রমাণ পত্র জমাদেন মাথিউরা ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব ১৭ দলের টিম ম্যানেজার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মাথিউরা ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল দলের টিম ম্যানেজার ইউপি সদস্য আবুল কালাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে প্রমাণ দাখিলের বিষয়টি জানান উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন।  বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সত্যায়িত অভিযুক্ত খেলোয়াড় রাজুর শিক্ষা সনদপত্র দাখিল করায় সঠিক বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন টিম ম্যানেজার। তবে মোল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান কলেজ অধ্যক্ষের দেয়া শিক্ষা সনদকে বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের হাতে লেখা সনদপত্রটি সঠিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মাসুদুল হাসান রাজু লাউতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু মাথিউরা ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব ১৭ দলের বিপক্ষে মোল্লাপুর ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব ১৭ দলের মোকাবেলায় আকবর হোসেন রাজু নামে খেলোয়াড় তালিকা অন্তর্ভুক্ত হয়ে খেলায় অংশ নেন। খেলা শেষ পরাজিত দল মাথিউরা ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব ১৭ দলের টিম ম্যানেজার রাজুসহ আরও এক খেলোয়াড়ের বয়স চুরির অভিযোগ তুলে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। আজ বৃহস্পতিবার তার দায়ের করা অভিযোগে প্রমাণ হিসাবে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে রাজুর শিক্ষা সনদ দাখিল করেন। শিক্ষা সনদে ২০০০ সালের ১৪ এপ্রিল তার জন্মদিন উল্লেখ রয়েছে। সে অনুপাতে তার বয়স ১৮ বছরের উপরে। শিক্ষা সনদ অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ১৮ বছর ০৪ মাস ১৯ দিন।

মাথিউরা ইউপি সদস্য ও দলের টিম ম্যানেজার মোঃ আবুল কালাম বলেন, ‘বিয়ানীবাজারে প্রথমবারেই এ টুর্নামেন্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মুল্লাপুর ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল একাদশ। টুর্নামেন্ট অনুর্ধ্ব-১৭ হলেও মুল্লাপুর ইউনিয়ন তাদের দলে ১৭ বছরের উর্ধ্বের বয়স্ক পেশাদার দুজন খেলোয়াড়কে মাঠে ব্যবহার করেছে। এ ব্যাপারে ঐদিন ম্যাচ শেষে এক হাজার টাকা অভিযোগ ফি দিয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবর অভিযোগ করেছিলাম এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্তদের ১জনের শিক্ষা সনদ প্রমাণ হিসাবে দিয়েছি।এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা আমাদের দলের পক্ষে রায় দিবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খেলোয়াড়দ্বয়ের কলেজের ভর্তিতথ্যকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, ‘খেলোয়াড়দ্বয়ের হাতের লিখা জন্ম সনদ দুটি আমার দায়িত্বকালীন মেয়াদের নয়। যদি ভুল ত্রুটি থাকে তাহলে তার দায় আমার উপর বর্তায় না।’

মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু প্রমাণাদি দেয়া সম্ভব তা আমরা দিয়েছি। এখন এরকম জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমি আশাবাদী।

এ ব্যাপারে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি।আজ (বৃহস্পতিবার) অভিযুক্ত দলের এক খেলোয়াড়ের বিপক্ষে বয়স প্রমাণ হিসাবে শিক্ষা সনদ দিয়েছেন। আমরা কমিটি বসে দায়িদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

প্রসঙ্গগত, বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রথমবারের মতো মাঠে গড়িয়েছে বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। জাতীয় পর্যায়ের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তৈরির আশ্বাস নিয়ে শুরু করে এখন তা বিবর্ণ রূপে পরিণত হয়েছে! বয়স চুরির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে উপজেলায় প্রথমবারের মতো গড়ানো এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় খেলায় মুল্লাপুর ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল একাদশের বিরুদ্ধে বয়স চুরির অভিযোগ তুলেছে মাথিউরা ইউনিয়ন অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল একাদশ । মাথিউরা দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে এ বয়স চুরির অভিযোগ আমলে নিয়েছিল বিয়ানীবাজার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা।