দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর আগামী শনিবার (২৮ অক্টোবর) শুরু হতে যাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। গেলো কয়েকমাসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের পরও জেলার অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে ৩ বার এই তারিখ পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের সম্মেলনের এই তারিখ ঘোষণা করেন।

তারিখ ঘোষণার পর থেকেই জেলার সভাপতি-সম্পাদক পদ প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দরা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত করছেন জোর লবিং। তাদের কর্মী সমর্থকরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন চায়ের আড্ডায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ইতিমধ্যে পদ প্রত্যাশী সিনিয়র এবং জুনিয়র নেতাদের মধ্যে চলছে এক ধরনের স্নায়ু যুদ্ধ। কোন কোন ক্ষেত্রে জুনিয়র নেতারা তৃণমূলে প্রচারণায় এগিয়ে। তবে এসব প্রচারণার কোন গুরুত্ব থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলীয় বিশ্বস্ত সূত্র।

সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এবার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। দলীয় নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের একাধিক বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মতো দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তা পাঠ করবেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের। এসব সূত্র জানায়, প্রার্থীদের বিগত দিনের কর্মকান্ড ও দলের প্রতি আস্থা, বিশ্বস্ত, ত্যাগ তিতীক্ষার আমলনামা সম্পর্কে সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সভাপতি-সম্পাদকের নাম নির্বাচন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রী দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোন নেতাদেরও তদবির শুনছেন না। কেননা, মৌলভীবাজার জেলার দীর্ঘদিনের কোন্দলের সমীকরণ আর আসন্ন সম্মেলনের প্রার্থীদের প্রতি কেন্দ্রের কয়েক নেতার বিশেষ অনুরাগ আর বিরাগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর জানা।

আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের। এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রিয় সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন ও হুইপ শাহাব উদ্দিন আহমদ। সভার সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চিপ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ।

আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি পদে আলোচনায় প্রথম সারিতে আছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, সহ সভাপতি মুহিবুর রহমান তরফদার ও সদস্য সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম। এছাড়াও আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো. মসুদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি মো. কামাল হোসেন, পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান ফজলু, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিছবাহুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম এ রহিম (সিআইপি), আব্দুল মালিক তরফদার সুয়েব। এছাড়াও আলোচনায় আছেন এ এস এম আজাদুর রহমান, সৈয়দ মফস্বিল আলী ও ভিপি আব্দুল মতিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এ জেলায় দলের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিলো ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই। এরপর ২০০৯ সালের ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি কাউন্সিলে সভাপতি পদে জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নেছার আহমদকে গোপন ব্যালটে কাউন্সিলারদের ভোটে নির্বাচিত করা হয়। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সভাপতি পদে সৈয়দ মহসিন আলী (প্রয়াত) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবদুল ওয়াদুদ (প্রয়াত) পরাজিত হন। এর দীর্ঘ ৩ বছর পর অর্থাৎ ২০১২ সালে জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। এরপর থেকেই মূলত জেলা-উপজেলা দু’টি ভাগে বিভক্তভাবে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে দোষারোপ করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে।

সৌজন্যে- সিলেট ভিউ।