মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শিক্ষাবিদ মতিউর রহমান মাহমুদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) প্রয়াত এই শিক্ষাবিদের বাড়িতে আলোচনা ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার পুত্র কবি ওয়ালি মাহমুদ সকলের উপস্থিতি ও দোয়া কামনা করেছেন।

শিক্ষাবিদ মতিউর রহমান মাহমুদ বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ পাতন গ্রামের দেওয়ান কটেজে ১৯৪৯ সালের ১৫ই জুন   জন্মগ্রহন করেন। পরাধীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন তিনি। এছাড়াও যিনি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছিলেন জন্মভূমি।

তাঁর প্রথম শুরুটা হয়েছিল সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে। দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় নাগরিক অধিকারের অন্যতম অধিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলনে জড়িয়ে যান। সেই সম্পৃক্ততা ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত একনাগাড়ে ছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। গৌরব ও অর্জনের মুক্তি সংগ্রামের সহযোগী হয়েছিলেন তিনি। পরম মমতায় লালন করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট এবং সমিতি ইত্যাদি নানা রকম সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট, শিক্ষা সোপান, বিয়ানীবাজার চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন, শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট সংগঠনগুলোর বিয়ানীবাজার উপজেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সহযোগী ও পাতন-আব্দুল্লাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এবং লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সামাজিক কাজের মাধ্যমে সমাজের কাঙ্খিত পরিবর্তনের স্বপ্ন; মানুষের কাছাকাছি তাঁর সাম্যবাদী চেতনা এবং আদর্শকে পৌঁছে দিয়েছেন। এ শিক্ষাবিদ ছিলেন নীতি- নৈতিকতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর মাঝে ছিল শিক্ষায় উৎসাহ-উদ্দীপনা, একাগ্রতা, জ্ঞান বিতরণের দৃঢ় প্রত্যয় ও প্রত্যাশা এবং সর্বোপরি প্রচন্ড ব্যক্তিত্ব যা তরুণদের আকর্ষণ করত। মেধায় ও মননে যিনি সার্বজনীন ছিলেন। মানুষের কল্যাণের জয়বার্তা তাঁর কর্মে প্রতিফলিত হয়েছিল।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন শিক্ষাবিদ মতিউর রহমান মাহমুদ ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি পরলোকগমন করেন।