বিয়ানীবাজারে ছোটদেশ গ্রামের খছরুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম তারেককে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির দাবী জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ গ্রামবাসী। আজ শনিবার দুপুর ৩টার দিকে জিম্মি পার্টি সেন্টারে গ্রামের পক্ষে থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার মুক্তি দাবি করা হয়। গ্রামবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন। এসময় আমিনুল ইসলাম তারেকের পিতা খছরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতন পুন্না পাড়া এলাকায় গত ১১ জুন পাতন গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঘটনা আমিনুল ইসলাম তারেক জড়িত নয়। অথচ তাকে এ সংঘর্ষে নিহত মুহিতুর রহমান মিন্টু হত্যায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামী করেছেন বাদী মাসুক আহমদ। থানায় রাত ১২টার দিকে আহতদের দেখতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে নিহত মিন্টু হত্যা মামলা তাকে আটক দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

কোনভাবে আমিনুল ইসলাম তারেক এ সংঘর্ষে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। ছোটদেশ গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদে সে সবার সাথে তারাবীহ নামাজ আদায় করে। রাত পৌণে ১০ টার দিকে নামাজ শেষ করে সে পিতা খছরুল ইসলামের সাথে বাড়ি যায়। বাড়িতে রাতের খাবার খাওয়ার সময় অনুমান ১১টার দিকে পাতন গ্রাম থেকে ফোন আসে। সংঘর্ষে তার মামা সাবুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাকে সেখানে জেতে তার মামাতো বোন অনুরোধ করে। আমিনুল পিতা অনুমতি নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছোটদেশ নিজ বাড়ি থেকে রওয়ানা হয়। ফেনগ্রাম ওয়াব আলী দোকান পর্যন্ত হেটে আসে। সেখানে একটি সিএনজি পেয়ে বিয়ানীবাজারে এসে হাসপাতালে ছুটে যায়। হাসপাতালে গিয়ে শুনে আহরা মামলা করতে থানা গেছেন। আমিনুল থানায় আসার কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থানায় মিন্টু মারা যাওয়ার খবর আসলে আমিনুলসহ একসাথে পুলিশ থানার ভেতর থেকে ৬জনকে আটক করে। অপর ৫জনকে ছেড়ে দিয়ে শুধু আমিনুল ইসলামকে আটক রেখে হত্যা মামলার ৯নং আসামী উল্লেখ করে জেলহাজাতে প্রেরণ করা হয়।

আমিনুল ইসলামের পিতা খছরুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের আব্দুল মানিকের পুত্র আলী হোসেন আমিনুলের সাথে ছিল। তার মাধ্যমে ভোরে আমিনুল আটকের বিষয়টি জানতে পারি। পরে এলাকার লোকজন নিয়ে থানায় এসে বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা বাদীর দেয়া এজাহারটি দেখিয়ে বলেন তারা নিরুপায়। আমার প্রশ্ন পুলিশ তদন্ত না করে অন্যায়ভাবে আমার পুত্রকে একটি হত্যা মামলার আসামী হিসাবে জেলে প্রেরণ করেছে। আমার ছেলের আগামী মাসের মাষ্টার্স পরীক্ষা। এ অবস্থায় সে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি না পেলে ছেলের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে। আমি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে সকলের সহযোগিতা চাই এবং নিহত মিন্টুকে যারা হত্যা করেছে তাদের শাস্তি হোক এটাই চাই।

ছোটদেশ গ্রামের নিজাম উদ্দিন বলেন, সামাজিকভাবে আমরা পাতন এলাকার মুরব্বিদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্থ করেছেন আমিনুলের মুক্তির বিষয়ে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করবেন। গ্রামের মুরব্বিরা আমাদের জানিয়েছেন ঘটনার সময় আমিনুল সেখানে উপস্থিত ছিলনা বা এ ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই। হয়তো নিহত মিন্টুর হত্যাকারিরা আমিনুলের মামা হওয়ার কারণে তাকে আসামী করা হয়েছে। পাতন গ্রামের পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম তারেকের মুক্তির বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন গ্রামের মুরব্বিরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লুৎফুর রহমান, খছরুজ্জামান, নিজাম উদ্দিন, আব্দুছ সাত্তার, মফুর আলী, কামাল হোসেনসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী।