বিয়ানীবাজারের সন্তান হারমাইন গ্রুপখ্যাত ধনাঢ্য সুগন্ধী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমানের প্রশংসায় নিবন্ধ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী পত্রিকা খালিজ টাইমস। গোল্ডেন কার্ড ভিসা পাওয়ার প্রেক্ষিতে পত্রিকাটি প্রশংসাসূচক এ নিবন্ধ প্রকাশ করে।

চলতি সপ্তাহের গোড়ায় জনাব রহমান বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সম্মানজনক স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদ লাভ করেন। দেশটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যাকে এই বিশেষ সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হল। ৬১ বছরের এই স্বনামধন্য প্রবাসী আল হারমাইন বাণিজ্যিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

দুবাই ভিত্তিক খালিজ টাইমস বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে হারমাইনের ব্যবসা করার ৩৮ বছর উদযাপন কালে তার এই সাফল্য এল। তিনি একজন বিজনেস টাইকুন এবং সিজনড ব্যাংকার। তার গ্রুপের আল হারমাইন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম সুগন্ধী উৎপানকারী।

পত্রিকাটির মতে, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি ঐতিহ্য পরিবারের সন্তান মাহতাবুর রহমানের জন্ম ১৯৫৮ সালে। তবে সিলেট শহরেই তিনি তার পড়োশোনা করেছেন। এরপর তিনি মক্কা নগরী থেকে পরিচালিত তাদের পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন।

খালিজ টাইমস লিখেছে, মাহতাবুর তার পিতার কাছেই ব্যবসায়গত কলাকৌশল রপ্ত করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, মক্কা থেকে তাদের পারিবারিক ব্যবসা কিভাবে অন্যান্য গন্তব্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। যখন দেখা গেল সুগন্ধী ব্যবসা রমরমা, তখন ১৯৮১ সালে মাহতাবুর দুবাইয়ে শোরুম খোলেন।

মাহতাবুর খালিজ টাইমসকে বলেছেন, ১৯৯২-১৯৩ সালে আমি দুবাইয়ে সুগন্ধী কারখানা স্থাপনে এক খন্ড জমির সন্ধান করি। আর তখন যিনি এগিয়ে এলেন, তিনি আর কেউ নন, আজমানের শাসক এবং সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য শেখ হুমায়েদ বিন রশিদ আল নুয়ামি। পরে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। কয়েক বছর অন্তর আমরা আমাদের ব্যবসায় কয়েকগুণ হারে বাড়াতে থাকি। আজমানের কারখানায় এপর্যন্ত আমরা ১শ মিলিয়ন দিরহামের বেশি বিনিয়োগ করেছি।’

ন্যাশনাল পত্রিকায় দেওয়া এক আলাদা সাক্ষাৎকারে জনাব রহমান বলেন, ‌‌’গোল্ডেন কার্ড ভিসা আমার এবং আমার দেশের জন্য একটি সম্মান। এ্টা আমাদেরকে দেশটিতে আরো বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। ‘

ন্যাশনাল লিখেছে, ১৯৭০ সালে তিনি মক্কাশরিফে প্রথম সুগন্ধী ব্যবসা শুরু করেন। হজব্রত পালন করতে আসা মুসল্লীরা তার সুগন্ধী কিনতেন। তিনি একজন সমাজসেবী ও পরোপকারী। তিনি তার নিজ শহর সিলেটে একটি বারো তলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও দাতব্য সংস্থায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য, মাহতাবুর রহমান নাসিরের বাড়ি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকায়। তিনি সম্প্রতি সিআইপি (এনআরবি) এসোসিয়েশন এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।