অবশেষে ফেরার মতো করে ফিরলেন সিলেট-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এক দশক পর সিলেট-২ সংসদীয় (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে ডুবানো নৌকা ভাসিয়ে এবার এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম লিখাচ্ছেন মন্ত্রীসভায়।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের তিনি ৭৮ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এরপর বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকালে শপথ গ্রহণ করেন শফিক চৌধুরী। শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি পেলেন সুখবর। মন্ত্রিসভায় ঠাই পাচ্ছেন ২৪ ঘণ্টার রাজনীতিবিদ হিসেবে সুখ্যাতি পাওয়া এই আওয়ামী লীগ নেতা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন পেয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন- ‘কোন মন্ত্রণালয় মিলছে তা এখনো জানানো হয়নি। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে প্রথমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়াবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

এর আগে ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সে সময়ের প্রভাবশালী নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হারিয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন শফিক।

শফিকুর রহমান চৌধুরী ‘কামব্যাক’ করায় বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সেই আনন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনিও নিজেকে মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিবেন বলে এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগে কাজ করা শফিকুর রহমান বিলেতের মায়া ত্যাগ করে সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় হন ২০০৮ সালে। পরের বছরেই সিলেট-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাজিমাত করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে বিশ^স্ত নেতা হয়ে উঠায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে মূল্যায়ন করে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পান তিনি।

দেশে থিতু হওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মী, সব শ্রেণি-পেশা এবং সাধারণ মানুষের জন্য শফিক চৌধুরীর দরজা সবসময় উন্মুক্ত ছিলো। যে কারেণ তিনি ‘সিলেটের চব্বিশ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবে সুখ্যাতি পান। তিনি ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।