বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ০৯ এপ্রিল ২০১৭।

‘মুখে মধু অন্তরে বিষ’ এ প্রবাদ বাক্য বর্তমান সময়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা- পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের মধ্যে বিরাজ করছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে প্রচারণা করছেন। আবার অনেকেই দলে দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে মুখে মধু রেখে দলীয় প্রার্থী সাথে রয়েছেন। ষোল বছর পর বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বিমুখী নীতির প্রভাব পড়তে পারে পৌরসভা নির্বাচনে- এ আশংকা তৃণমূল নেতাকর্মীর।

গত ৬ এপ্রিল ময়ের প্রার্থী আব্দুস শুকুর উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। সে মতবিনিময়ে অনুপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়াসহ একাধিক দায়িত্বশীল। মতবিনিময় সভা থেকে সহসভাপতি আব্দুল আহাদ কলা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান মোবাইল ফোনে কথা বললেও বিকালে সাড়ে ৪টার সময় তিনি মধ্যাহ্ন ভোজ করেননি জানিয়ে আসতে পারবেন না জানান। দলের এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাঠেও প্রভাব পড়বে বলে নেতাকর্মীরা আশংকা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় অনুপস্থিত থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন। ৭ এপ্রিল নৌকার কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লবের সাথে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশ কাজ করছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেনের সাথে কাজ করছে ছাত্রলীগের অপর অংশ। এছাড়া ছাত্রলীগ রিভারবেল্ট গ্রুপ এখন নির্বাচনী মাঠে সরব না হলেও কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করেনি। ধারণা করা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীকের পক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের প্রাচীন এ গ্রুপটি প্রচারণায় নামবে।

জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আমান উদ্দিন বলেন, দলের সাথে থেকেও যারা অন্তরে বিষ রেখে মধু বিলাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করার এটাই উপযুক্ত সময়। কারা আওয়ামী লীগ রাজনীতি মূল স্রোতে রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কারা অমান্য করছে- এসব সব কিছু দেখে আগামীতে দলের ভীত শক্ত করতে হবে। একই সাথে আগাছা উপড়ে ফেলতে হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল বলেন, নৌকার ভোট কোন ওয়ার্ডে, কোন এলাকায় কতটি তা সময় হলেই দেখা যাবে। যার কারণে মুখে ভালবাসা রেখে সাথে থেকে নিজ এলাকায় যদি তার প্রতিফলন না ঘটে তাহলে এসব নেতাদের সহজেই বের করা যাবে। তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এমনটা হবে না। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নৌকার প্রতি আবেগ রয়েছে। সে আবেগের প্রতিফলন ২৫ এপ্রিল ঘটবে এবং আওয়ামী লীগের নৌকা বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করবে।