সিলেট থেকে তামাবিল স্থলবন্দরের সংযোগ সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬৫ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। এই সড়ক দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পাথর ও কয়লা আমদানি করা হয়। সড়ক দিয়ে চলে বিপুল ভারী যানবাহন। তবে দীর্ঘদিন থেকে সড়কটির বেহাল অবস্থায় জনসাধারনে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর থেকে জাফলং পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। বিটুমিন উঠে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

মসৃণ সড়কের দাবিতে ট্রাক চালকেরা কয়েক দফা ধর্মঘটও করেছেন। ২০০০ সালে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক সংস্কার করা হয়। দীর্ঘদিন পরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ফোরলেনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এই সড়ক উন্নয়নে অর্থায়ন করবে।

সওজ সূত্র জানায়, ৬৫ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়কে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ফোরলেনের উভয়পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলে লেন থাকবে। এছাড়া পথচারীদের জন্য আলানা লেন থাকবে ‍উভয়পাশে। এটা এশিয়ান হাইওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

‘ইম্প্রুভমেন্ট অব সিলেট-টামাবিল রোড টু এ ফোরলেন হাইওয়ে’ প্রকল্পের আওতায় এই ‍উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ফোরলেনের এই সড়কটিতে ৩৩২ মিটার দৈর্ঘ্যের ২৩ কালভার্ট, এল টাইপ সসার ড্রেন, ভি টাইপ সসার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ১১৯ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি রেলওভার পাস, প্রয়োজন অনুসারে আটটি আন্ডারপাস ও তিনটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। পোস্ট ট্রাফিক সাইন, চারটি দিক নির্দেশক সাইন, ছয়টি কংক্রিটের পোস্টসহ সড়কজুড়ে থাকবে নান্দনিক রোড মার্কিং। এছাড়া সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণ, আনলোড স্ট্যাক ইয়ার্ড ও এক্সেল রোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে এটি বস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্প প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) জাকির হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার পর্যটক জাফলং ভ্রমণ করতে আসেন। ২০১৫ সালে তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ঢাকা-গৌহাটি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় সড়কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সিলেটের জ্বালানি খাত, নির্মাণ সামগ্রী এবং পর্যটন খাতে অবদান রাখতে সড়কটি আরও উন্নত করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এটাকে আন্তর্জাতিক সড়কে রূপ দেবে। এই প্রকল্পে এআইআইবি অর্থায়ন করবে। আমরা এআইইবি’কে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

তথ্যসুত্র-বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম