বড়লেখায় রোববার (০৬ ডিসেম্বর) উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে ঘোষিত সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খানকে প্রত্যাহারের দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও শ্রমিক দলের একাংশ পৌর শহরে এ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ফয়ছল আহমেদ সাগর, উপজেলা যুবদল নেতা জুবের আহমদ, রুহেল আহমদ, আমান হাছান, এবাদুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, মিছবা উদ্দিন, জামিল আহমদ, জালাল আহমদ, সুমন আহমদ, গালিব আহমদ চৌধুরী, ময়ূর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রায়হান মো. মুজিব, জাহিদ উদ্দিন, সুমন আহমদ, শরিফ উদ্দিন ইমন, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম মতিন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম আরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, এবাদুর রহমান বাপ্পি, সদস্য জবলু হোসেন, আক্তার হোসেন রেদোয়ান, আছাদ আহমদ, এ এইচ আনোয়ার, তাহের আহমদ, খায়রুল ইসলাম শুভ, পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক ফাহিম আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল আহমদ, সদস্য আশরাফুল ইসলাম, মারুফ আবির, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাফর আহমদ, শ্রমিক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন প্রমুখ।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ বলেন, সম্মেলনে সবার উপস্থিতে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এম. নাসের রহমান বড়লেখা উপজেলার বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু পর শুনি গাড়িতে বসে আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খানকে নতুন কমিটির সাংগঠনিকের সম্পাদক করা হয়েছে। এটা দলের সবার অগোচরে করা হয়েছে। যার কারণে আমরা কেউ জানতে পারিনি, পরে বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি।

তিনি বলেন, আমরা তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মানি না। আমরা তাকে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান) পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়টি জানা নেই। সম্মেলনে সবার উপস্থিতেই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। তখন কেউ সেখানে আপত্তি করেনি। পরে হয়তো কেউ তাদেরকে উস্কানি দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করিয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু অন্য পদগুলোতে ভোট হয় না। আর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দুটি। সে হিসেবে এই পদে ভোট হয়নি। আর আমি আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। আমার কাজের একটিভিটি দেখে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ একমত হয়ে দলের গঠনতন্ত্র মেনে আমাকে পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক চাইলে যে কোনো সময় অন্যপদে যে কারও নাম ঘোষণা করতে পারেন। এটা সাংগঠনিকভাবে তাদের অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির একটি গঠনতন্ত্রাতিক রাজনৈতিক দল। এই দলে একটি পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। হয়তো অন্য প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা কাঙ্খিত পদ না পাওয়ায় তাঁরা মনক্ষুন্ন হতে পারেন। সময়ের ব্যবধানে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চার বছর পর রোববার (০৬ ডিসেম্বর) একটি কনভেনশন হলে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মুজিবুর রহমান খসরু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

ইউপি নির্বাচন নিয়ে 'এবি টিভি'র বিশেষ আয়োজন ‘ভোটের হাওয়া’।। ৫ম পর্বে মাথিউরা ইউনিয়ন