বড়লেখার শহরাঞ্চল ও উজান এলাকায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দুর্ভোগ বাড়ছে হাওরতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হাকালুকি হাওরপারের মানুষের এবার পাহাড়ি ঢলে দুর্ভোগ যেনো আরও বেড়ে যায়। হাওরপারের তালিমপুর ও সুজানগর ইউনিয়নে খুলা হয়েছে ৪টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র। বোরো ধান, মাছ, আউশ ধান আর সর্বশেষ ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়ায় হাহাকার চলছে হাওর এলাকার জনসাধারণের মধ্যে। এসব এলাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বদলে বিষাদে চেয়ে গেছে। যেখানে খেয়ে বেঁচে থাকাটাও দায়, সেখানে ঈদ উদযাপন করা কঠিন পড়ে হাওরবাসীর মাঝে।

ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। ঘরে পানি ঢুকায় স্থানীয় স্কুলগুলোতে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন অন্তত ৩০টি পরিবার। অনেকেই আবার উঁচু এলাকা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তালিমপুর ইউনিয়নের মুর্শিবাদকুরা, খুটাউরা, হাল্লা, কলারতলীপার গ্রামের রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও হাকালুকি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রাঙ্গণ তলিয়ে রয়েছে। সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি, রাঙ্গিনগর, দশঘরি, বাড্ডা, বাবনেরচক গ্রামের অধিকাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বর্ণি, সুজানগর, দক্ষিণভাগ, দাসেরবাজার ইউনিয়নের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। হাওরপারের দুর্গত মানুষের বসবাসের জন্য উপজেলা প্রশাসন তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাইস্কুল ও হাকালুকি প্রাইমারি স্কুলে এবং সুজানগর ইউনিয়নের ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও আজিমগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দিয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেকেই ত্রাণ পাচ্ছেন না। নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিবার ত্রাণ সহায়তা পেলেও সিংহভাগ ক্ষতিগ্রস্তরা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইউএনও’কে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র অবলোকন করেছেন। হাওরপারে ২ ইউনিয়নে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।