বড়লেখায় নিউ সমনবাগ চা বাগানে দেবরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিতা বাক্তি (২৩) নামের নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাগানের পাক্কা লাইন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত রবিতা বাক্তি ওই এলাকার অটোরিকশা চালক সুষেন বাক্তির স্ত্রী।

পুলিশ ঘাতক দেবর প্রদীপ বাক্তি মিঠুনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। সে পাক্কা লাইনের বুলবুল বাক্তির ছেলে নিহত রবিতা বাক্তি সম্পর্কে মিঠুনের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাগানের পাক্কা লাইন এলাকায় মামা ভাগ্য বাক্তিকে গালিগালাজ করছিল প্রদীপ বাক্তি মিঠুন। এক পর্যায়ে মিঠুন মামার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি দেখে ভাগ্যের ছেলের বউ রবিতা শ্বশুরকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। এসময় মিঠুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবিতার তলপেটে আঘাত করলে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চা বাগানের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাবিকে খুন করে পালানোর চেষ্টাকালে বাগানের শ্রমিকরা মিঠুন বাক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এদিকে এ ঘটনায় হত্যা মামলার পর পুলিশ মিঠুনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে প্রেরণ করে। প্রদীপ বাক্তি মিঠুন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বড়লেখা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেবনাথ শনিবার বিকেলে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রদীপকে আটক করেছে। এই ঘটনায় নিহত রবিতার স্বামী সুষেন বাক্তি প্রদীপের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। সকালে (শনিবার) ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রবিতার স্বামীর করা মামলায় প্রদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়। প্রদীপ আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-