বড়লেখায় লিপি আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ( ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চুকারপুঞ্জি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লিপির স্বামীর বাড়ির লোকজনের দাবি লিপি আত্মহত্যা করেছেন।

অন্যদিকে, নিহতের মা লতিবা বেগমের অভিযোগ, স্বামীসহ শ্বশুড় বাড়ির লোকজন শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর তার গলায় শাড়ী পেঁচিয়ে ঘরের ভীমের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিহত গৃহবধূর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় ও গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নিজ দক্ষিণভাগ গ্রামের প্রবাসী আনছার আলীর মেয়ে লিপি আক্তারের সাথে প্রায় ৩ মাস আগে চুকারপুঞ্জি গ্রামের প্রবাসী বাবুল মিয়ার ছেলে আব্দুল হানিফের বিয়ে হয়।

নিহত গৃহবধুর মা লতিবা বেগম জানান, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে মেয়ে লিপি বেগম তাকে মোবাইল ফোনে বলে গত রাতে তার স্বামী তাকে মারধর করেছে। সে এখানে আর থাকবে না, বাবার বাড়িতে চলে আসবে। তিনি ঠিক আছে আসবে, এখন মোবাইলটি তোমার স্বামীকে দাও, আমি কথা বলি। কিন্তু সে কথা বলেনি। এরপর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জুম্মার নামাজের পর হঠাৎ আব্দুল হানিফ (লিপির স্বামী) ফোনে জানায়- আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী, তার বোন, চাচা-চাচী পরিকল্পিতভাবে গলায় চার্জারের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর গলায় শাড়ী পেঁচিয়ে ঘরের ভীমের সঙ্গে লিপি বেগমের লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচারণা চালায়। তিনি মেয়ে হত্যার বিচার চান।

নিহত লিপির স্বামী আব্দুল হানিফ জানান, তার স্ত্রী গলায় শাড়ী পেঁচিয়ে ভীমের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে এবং সে সময় আপনি কোথায় ছিলেন এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব তিনি দিতে পারেননি।

বড়লেখা থানার এসআই হযরত আলী বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ লিপির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

চোর চক্রের তথ্য পেয়েছে বিয়ানীবাজারের পুলিশ চুরি যাওয়া অটোরিক্সাসহ মালামাল উদ্ধার