বড়লেখায় প্রবাসী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সরকারী খাস খতিয়ানভূক্ত কবরস্থানের (শ্রেণীর) ভূমিতে পুকুর কেটে বসতবাড়ির নিচু জায়গা ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কটালপুর গ্রামের প্রবাসী সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাই হোসাইন আহমদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠেছে। এব্যাপারে কবরস্থান কমিটির সভাপতিসহ গ্রামবাসী ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার স্থানীয় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের কটালপুর গ্রামে বাঘমারা মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত সরকারী ৯০ শতাংশ ভূমি শত বছরেরও ঊর্ধ্বকাল থেকে মুসলমান জনসাধারণ কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ভূমি সংলগ্ন বাড়ির মালিক প্রবাসী সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাই হোসাইন আহমদ সম্প্রতি সরকারী এ কবরস্থানের ভূমিতে জোরপূর্বক পুকুর (গভীর গর্ত) খনন করে মাটি নিয়ে বসত বাড়ির নিচু স্থান ভরাট করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে সরকারী খাস ভূমির মাটি কেটে প্রবাসীর বসতবাড়ির নিচু স্থান ভরাটের সত্যতা পাওয়া যায়। কবরস্থান কমিটির সভাপতি গৌছ উদ্দিন, সম্পাদক ফয়জুর রহমান, গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি রহিম উদ্দিন, মুরব্বি মশাইদ আলী, আতাউর রহমান, আব্দুল হামিদ, আব্দুর রহিম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বলেন, প্রবাসী সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাই হোসাইন আহমদের বসতবাড়িটি সরকারী কবরস্থান সংলগ্ন হওয়ায় তারা ওই ভূমিতে বড় বড় গর্ত করে মাটি নিয়ে তাদের বসতবাড়ির নিচু স্থান ভরাট করেছে। এছাড়া ওই ভূমির পূর্ব দিকে স্থানীয় কৃষকদের কৃষি কাজের জন্য হাওরে যাতায়াতের একটি সরকারী গোপাট (রাস্তা) রয়েছে। এ গোপাটের পশ্চিম অংশের গোরস্থানে সম্প্রতি পুকুর খনন করায় যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী ভূমির মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় তারা হুমকি-ধমকি দেন। এব্যাপারে কবরস্থান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত ১৭ মার্চ প্রবাসী সিরাজ উদ্দিন ও তার ভাই হোসাইন আহমদের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মাটি কাটার বিষয়ে প্রবাসী সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী ইয়ারুন নেছা ও দেবর হোসাইন আহমদ বলেন, করবস্থান সংলগ্ন গুচ্ছভাবে তারা কয়েক পরিবার বসবাস করেন। তাদের যাতায়াত রাস্তাটি অত্যন্ত নিচু হওয়ায় বর্ষায় ডুবে যায়। এজন্য কবরস্থান কমিটিকে জানিয়ে যাতায়াতের রাস্তাটি উঁচু করতে কিছু মাটি নিয়েছেন। নিজেদের ভূমি থেকে বসতবাড়ি ভরাট করেছেন। অভিযোগকারীদের অনেকেই কবরস্থানের ভূমি থেকে অনেক মাটি নিয়েছেন। এখন রহস্যজনক কারণে এখন তারা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মঙ্গলবার বলেন, অভিযোগ পেয়ে রোববার তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরকারী কবরস্থান শ্রেণীর ভূমি খনন করে পার্শবর্তী বসতবাড়ি ভরাটের সত্যতা পেয়েছেন। এতে সরকারের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এব্যাপারে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বাড়ি ফেরার পথে খুন হলেন গোলাপগঞ্জের ব্যবসায়ী