মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় পৌরসভা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৩৬ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় তিনি লিখিত ইশতেহার পড়ে শোনান।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি লুৎফুর রহমান চুন্নুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর। এসময় পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিক, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র প্রার্থী আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, আমার ঘোষিত ইশতেহারই শেষ কথা নয়। আমি নির্বাচিত হলে সময়ের প্রয়োজনে যখন যা করা দরকার তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নাগরিক অধিকার ও নাগরিক সেবার বিষয়ে কখনও আপস করব না। সব সময় আমার ভাবনা ও পরিকল্পনা থাকবে যুগোপযোগী ও আধুনিক। তিনি বলেন, বিগত ২০১৫ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি অসমাপ্ত কাজগুলো চলমান রয়েছে। আমি আবার বিজয়ী হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে বড়লেখা পৌরসভাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তরিত করবো।

লিখিত ইশতেহারে তিনি উল্লেখ করেন, পৌরসভা পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা। বড়লেখা পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা। পৌর ভবনের জায়গার ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করা। পৌর প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পৌরসভা সুনিশ্চিত করা। বিদ্যমান টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল কার্যক্রম প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটালাইজেশন করা। মেয়রের সাথে পৌরবাসীর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নাগরিক সমস্যাদির অভিযোগ গ্রহণ ও সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে পৌরবাসীর সমস্যাদি সমাধান করা; এ লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু করা। পৗরবাসীর সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান, চুরি, ডাকাতি রোধ ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাসহ বড়লেখা বাজার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা। সকল প্রকার পৌরকর যৌক্তিক ও সহনশীল পর্যায়ে রাখা।

ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণের মাধ্যমে পৌরসভার সকল উন্নয়নমূলক কাজ ও সেবা বিকেন্দ্রীকরণ করা। প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে পৌরসভার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন করা। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পৌর এলাকার সকল রাস্তা সংস্কার, প্রশ্বস্থ এবং পাকাকরণ করা। বিদ্যমান স্ট্রিট লাইট সমূহ সংস্কার ও স্ট্রিট লাইট বৃদ্ধিকরণের মাধ্যমে রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ও চুরি-ডাকাতি বন্ধ করা।

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ উদ্যোগের আলোকে বড়লেখা পৌরসভায় শতভাগ বিদ্যুৎ বাস্তবায়ন করা। ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থাকরণসহ পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গঠনের লক্ষে দ্রুততম সময়ে হাজীগঞ্জ বাজার, বাসা-বাড়ি ও পৌরসভার নির্ধারিত ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা অপসারণ করা। গণশৌচাগার নির্মাণ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার করা। মশা-মাছি বাহিত রোগ (ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া ইত্যাদি) প্রতিরোধ ও কুকুরের উপদ্রব থেকে নিষ্কৃতি পেতে চলমান প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা। পৌরসভাধীন কসাইখানা স্থানান্তর ও আধুনিকায়ন করা।

পৌর এলাকার প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা শতভাগ উন্নীত করা। পৌর শহরের যানজট নিরসন ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে পরিবহণ মালিক, শ্রমিক ও অন্যান্য সংগঠনকে নিয়ে সম্মিলিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। সড়ক ও জনপদ বিভাগের মাধ্যমে পৌরসভার উত্তর ও দক্ষিণ চৌমূহনীতে দৃষ্টিনন্দন চত্বর স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা। বড়লেখা বাজারের ক্রেতা সাধারণ যাতে নিরাপদে, ন্যায্যমূল্যে এবং সঠিক ওজনে কেনাকাটা করতে পারেন তা নিয়মিত তদারকি করা। ব্যবসায়ি এবং ক্রেতা সাধারণের সুবিধার্থে পৌর মার্কেটগুলোকে আধুনিকায়ন করা। বিশুদ্ধ পানি সার্বক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করা।

মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবাসহ পৌর শহরের সকল নাগরিকের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। পৌর শহরের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমূহের সেবার মান তদারকি ও তাদের পরিত্যক্ত বর্জ্য সমূহ অপসারণ ও ধ্বংস করার ব্যবস্থা করা। ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’ তাই শিক্ষার প্রসার এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদান, বৃত্তি প্রদান, নজরদারি এবং গরীব শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান করা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষানুরাগী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে স্বীকৃতি বা সম্মাননা প্রদান করা। শিক্ষক, শিক্ষার্র্থী, সুশীল সমাজ এবং পাঠক শ্রেণীর জন্য গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি সাহিত্য ও সৃজনশীল প্রকাশনাসহ সুকুমার শিল্পের সকল শাখার উৎকর্ষ সাধনে প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা প্রদান করা।

তরুণ সমাজকে সুপথে পরিচালিত করতে এবং সকল শ্রেণী পেশার নাগরিকের বিনোদন ও উদ্দীপনা বাড়াতে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধিতে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করা। খেলার মাঠ সংস্কারসহ প্রতি বছর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গকে স্বীকৃতি বা সম্মাননা প্রদান করা। প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করা এবং পৌর বাজেটসহ উন্নয়ন কাজে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া। বেকারত্ব দূরীকরণে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তরুন সমাজের জন্য প্রযুক্তি নির্ভর, জীবন ও কর্মমূখী প্রশিক্ষণ চালু করা।

গণ-কবরস্থান ও গণ-শ্মশানের ব্যবস্থা করা। সকল ধর্মের শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাসহ ধর্মীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন, রক্ষনাবেক্ষণ ও মান মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

মাঠে গড়াচ্ছে বিয়ানীবাজার উপজেলা ক্রিকেট লিগের অষ্টম আসর