বড়লেখায় ব্যবসায়ী অপহরণের কাজে ব্যবহৃত নোহা মাইক্রোবাস পুলিশ উদ্ধার করেছে। সেই সাথে অপহরণ ও ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী মামলার আরো ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রতন দেবনাথ। এরা হচ্ছে নান্দুয়া গ্রামের মৃত নছির আলীর ছেলে জুবের আহমদ (২৮), বিছরাবন্দ গ্রামের মনির আলীর ছেলে ছফর উদ্দিন (৩০), আব্দুল গফুরের ছেলে কবির হোসেন (২৪) ও পাঁচপাড়া অফিস বাজারের আব্দুল লতিফের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৩)। বুধবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে পুলিশ গ্রেফতারদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

এদিকে কোটিপতি ব্যবসায়ী অপহরণ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সবুজ হোসেনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত সোমবার সে গ্রেফতার হয়। তার দেয়া তথ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্য আসামীদের গ্রেফতার ও অপহরণ কাজে ব্যবহৃত নোহা মাক্রোবাস আটক করেছে। এর আগে ৭ জুন রাতে ব্যবসায়ীকে চা বাগানের জঙ্গল থেকে উদ্ধারকালে অপহরণকারী চক্রের সদস্য উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের চন্ডিনগর গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ছেলে ইসমাইল আহমদ ওরফে হারুন ও বোবারথল গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে জুলমান আহমেদকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

জানা গেছে, বড়লেখা পৌরশহরের বারইগ্রাম এলাকার সত্যেন্দ্র কুমার দত্তের ছেলে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শশাংক কুমার দত্তকে ৪ জুন সন্ধ্যার পর সিলেটে যাওয়ার পথে বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর এলাকায় একাটি নোহা গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা তাকে চোখ বেধে অজ্ঞাত স্থানে রেখে তার ছোটভাইয়ের নিকট মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর তিনি ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। ৭ জুন রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাউছার দস্তগীরের নেতৃত্বে থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বাহাদুরপুর চা বাগানের নির্জন জঙ্গল থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী শশাংক কুমার দত্তকে উদ্ধার করে।

থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, ব্যবসায়ী শশাংক কুমার দত্ত অপহরণ মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারীসহ ঘটনায় জড়িত ৭ আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত নোহা গাড়ি। বুধবার গ্রেফতার ৪ আসামীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপহরণে জড়িত অন্যদের ব্যাপারে তথ্য উদ্ঘাটনে অন্যতম পরিকল্পনাকারী সবুজ হোসেনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

ফের বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কে ধস!