ব্যাংকের শহর বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় আমানতের চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় উদ্বৃত্ত তারল্য সংকটে ভুগছে এখানকার অনেকগুলো ব্যাংকের শাখা। এখানকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কয়েকটিতে তারল্য সংকটে ভোগলেও সবচেয়ে বেশী সমস্যায় ভুগছে ইসলামী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট থাকার কারণে রেমিটেন্স ডেস্ক (পিন) এবং বড় অংকের চেকধারী গ্রাহকদের ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে গ্রাহকদের বাগবিতণ্ডা দেখা দিয়েছে। চাপ সামাল দিতে ব্যাংকের প্রবেশ ফটকের ক্যাসি গেইটের তালা দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ঘন্টাখানেক পরে আসেন, এ্যক্সচ্যাঞ্জ কোম্পানির এপসে সমস্যা , এ্যক্সচ্যাঞ্জ কোম্পানির পর্যাপ্ত ক্যাশ নেই- এ রকম নানা যুক্তি দেখিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

আব্দুল কুদ্দুস নামের একজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেশের বাইরে থেকে রেমিটেন্স ডেক্সে (পিন) টাকা আসলেই মানি এক্সচ্যাঞ্জ এপসে সমস্যা দেখিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা একবার বলছেন পরে আসতে, আরেকবার বলেন অন্য ব্যাংকে দেখতে। ইতিমধ্যে কয়েকটা ব্যাংকে ঘুরলে টাকা তুলতে পারছি না। আর রবিবারের মধ্যেই যদি টাকা তুলতে না পারি তাহলে এবারের ঈদে কোরবানি দেয়া সম্ভব হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমানতের চেয়ে নগদ টাকা প্রদান বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলোতে এখন আর আগের মতো উদ্বৃত্ত তারল্য নেই। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কয়েকটিতে তারল্য সংকটে ভুগলেও তারচেয়ে বেশী সমস্যায় ভুগছে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহক সমৃদ্ধ শাখা। উত্তোলন আশংকাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় এক সময় উদ্বৃত্ত তারল্যে কমে গেছে অনেকাংশেই।

কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে আলাপ হলে এর নেপথ্য কারণ হিসেবে তারা জানান, ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকটের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধিই দায়ী। বেসরকারি খাতের ঋণের সুদ হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও তারা সংশয় প্রকাশ করেন।

এদিকে, বিয়ানীবাজারের পৌরশহরের কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের সাথে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়।

[image link=” http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/08/bank2.jpg” img=” http://beanibazarnews24.com/wp-content/uploads/2018/08/bank2.jpg” caption=” ব্যাংকের প্রবেশে গ্রাহকদের বাধা, কেসি গেইট বন্ধ থাকায় বাইরে প্রচণ্ড ভীড় (ছবিটি সকাল ১১টায় ব্র্যাক ব্যাংক থেকে তোলা) “]

সরেজমিনে দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের বিয়ানীবাজার শাখায় সকাল ৯টা থেকেই গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন। অসহ্য গরমে গ্রাহকরা ভুগছেন মারাত্মকভাবে। ব্যাংকগুলোর শাখা ম্যানেজারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ভেতরে অবস্থান করলেও বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও ১০টার আগে গ্রাহকদের ভেতরে বসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং এসময় গ্রাহকদের বিরুদ্ধে চড়াও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজার গহর আলতাফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি।

উপজেলার মুড়িয়া সারপার এলাকার বাসিন্দা আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাতিজায় প্রায় সময়ই ব্র্যাক ব্যাংকে টাকা পাঠায়। কিন্তু যতবার টাকা তুলতে আসি এ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আমাদের সাথে খারাপ ও অশোভন আচরণ করেন।’

পৌরশহরের নিদনপুর এলাকার রেমিটেন্স গ্রাহক তান্নি জানান, ‘প্রতি ঈদে দীর্ঘ লাইন থাকা শর্তেও অধিক মুনাফা লোভী প্রাইভেট ব্যাংকগুলো অল্প জনবল নিয়ে কাজ করে। এতে ভোগান্তীতে পড়তে হয় আমাদের রেমিটেন্স গ্রাহককে।’

ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক গহর আলতাফ চৌধুরী বলেন, প্রচন্ড গরম ও গ্রাহকদের চাপের কারণে নিজেকে সামলানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সেজন্য অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ি। যে কারণে গ্রাহকদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ হয়ে গেছে। আশা করি আগামীতে আরো সংযত হবো।