৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক ডরমিটরি প্রায় অব্যবহৃত রয়েছে। অপ্রশস্থ কক্ষ ও অধিক ভাড়ার কারণে শিক্ষকরা ডরমিটরিতে না থেকে বাইরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছেন। আট কক্ষবিশিষ্ট দ্বিতল শিক্ষক ডরমিটরি ভবনটি ২০১৬ সালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উদ্বোধন করেন।

কলেজ শিক্ষকরা জানান, ডরমিটরি ভবনের একেকটি কক্ষ মাত্র দশ ফুট লম্বা ও আট ফুট চওড়া। স্বল্প পরিসরের এ কক্ষটির মাসিক ভাড়া চার হাজার টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট দপ্তর ডরমিটরি ভবনের প্রতিটি কক্ষের জন্য মাসিক এ ভাড়া নির্ধারণ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক ডরমিটরি ভবনের সাতটি কক্ষ অব্যবহৃত রয়েছে। একমাত্র কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুর রহিম শিক্ষক ডরমিটরি ভবনের একটি কক্ষে বসবাস করছেন। অন্য কক্ষগুলো তালাবদ্ধ। কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, একজনের উপযোগী খাট রাখার পর কক্ষে আর অবশিষ্ট জায়গা থাকে না। এই কক্ষে কাপড় রাখার আলনা বা টেবিলও রাখতে পারছেন না শিক্ষকরা।

শহরের একটি ভবনের ফ্ল্যাটে একসঙ্গে ভাড়া থাকছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। শিক্ষকরা বলেন, শহরের এসব ফ্ল্যাটের একেকটি কক্ষ বিশাল। পুরো ফ্ল্যাটের ভাড়া যেখানে সাত হাজার টাকা, সেখানে কলেজের শিক্ষক ডরমিটরি ভবনের ছোট্ট একটি কক্ষের ভাড়া চার হাজার টাকা। কিন্তু প্রথমদিকে আমরা সে টাকা দিয়েই থাকতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু অপ্রশস্ত কক্ষের কারণে বাইরের ফ্ল্যাটে থাকতে বাধ্য হয়েছি।

শিক্ষক ডরমিটরি ভবনটি প্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে জানান বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, শিক্ষক ডরমিটরির কক্ষগুলো খুব ছোট হওয়ায় শিক্ষকরা এখানে থাকতে পারছেন না। এখানকার তুলনায় একেকটি কক্ষের ভাড়াও বেশি রাখা হয়েছে। ভাড়ার বিষয়টি পুনর্নির্ধারণ করার জন্য সংশ্নিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছিলাম, কিন্তু সে চিঠির কোনো উত্তর পাইনি।