অপহরণ হওয়া স্কুলছাত্রের সন্ধান দিয়ে তার অভিভাবকের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে টাকা নেওয়ার ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট এলাকা থেকে মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

আটক ব্যক্তির নাম কামাল মিয়া। সে কোম্পানীগঞ্জের কাকুরাইল গ্রামের মদরিছ আলীর ছেলে। তবে অপহরণ হওয়া ওই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অপহরণ হওয়া ওই ছাত্রের নাম আব্দুল ওয়াহিদ (১৬)। সে বড়লেখা উপজেলার ৫ নম্বর দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারতলের ইসলামনগর গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে। আব্দুল ওয়াহিদ দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারতল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

থানায় অভিযোগ ও যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৭ জুলাই রোববার বোবারতলের ইসলামনগর গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে এক লেবু বিক্রেতার সাথে সিলেটের বিয়ানীবাজার দেখার জন্য ঘুরতে যায়। এরপর সেখান থেকে হঠাৎ সে উধাও হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাবা ৯ জুলাই মঙ্গলবার বড়লেখা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই মধ্যে ১৬ জুলাই দিবাগত রাত একটার দিকে স্কুলছাত্রের মুঠোফোনে তার বাবা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এই সময় মুঠোফোনে কল ধরেন মুক্তিপণ আদায়কারী কামাল মিয়া। কামাল এ সময় স্কুলছাত্রকে দিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলিয়ে দেন এবং ছেলেকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে ওই ছাত্রের পরিবার ছেলেকে ফিরে পেতে টাকা দিতে রাজি হয়ে যায়।

কামাল মিয়া তখন একটি বিকাশ নম্বর দেন টাকা পাঠানোর জন্য। ছেলেকে ফিরে পেতে স্কুলছাত্রের পরিবার প্রথমে দশ হাজার টাকা বিকাশ নম্বরে পাঠায়। এই বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরেই বড়লেখা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রশিদ উদ্দিন গোয়াইনঘাট থানায় যোগাযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে ওই থানার পুলিশ ও স্থানীয় বাজারের লোকজনের সহায়তায় কামাল মিয়াকে আটক করা হয়।

তবে স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ কামাল মিয়াকে বড়লেখা থানায় নিয়ে আসে।

এই ঘটনায় স্কুল ছাত্রের বাবা ইকবাল হোসেন বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেছেন।

বড়লেখা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রশিদ উদ্দিন বলেন, স্কুলছাত্রের বাবা অপহরণ মামলা দিয়েছেন। ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করছিল আটক হওয়া কামাল মিয়া। দশ হাজার টাকা বিকাশে গ্রহণ করে সে। টাকা গ্রহণের সূত্র ধরে তাকে গোয়াইনঘাট থেকে তাকে আটক করে বড়লেখায় আনা হয়। তবে এটি অপহরণ, নাকি অন্যকিছু। আসল ঘটনাটি জানার জন্য আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।