বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদর প্রচারণায় মুখোর হয়ে উঠেছে পুরো পৌরসভা। নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সবার নজর কাড়লেও সংরক্ষিত কাউন্সিলর (মহিলা) পদে প্রচারণা তুলনামূলক কম। বিশেষ করে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী কম এবং নির্বাচনী এলাকা বড় হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে পৌরবাসীর তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। অপরিচিতি প্রার্থীরা এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাঁরা পৌরবাসীকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারের মহিলাদের সংরক্ষিত কাউন্সিরর পদে প্রতিদ্বন্ধিতায় অনীহাও একটি বড় কারণ।

গত ২৭ মার্চ মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ৯১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মেয়র ১১ জন, কাউন্সিলর পদে ৮০ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে প্রত্যাহার ও বাছাইয়ের বাদ পড়ে ১৭ জন। এছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩ ওয়ার্ডে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলে গত ২৯ মার্চ বাছাইয়ে একজন বাদ পড়েন। ফলে ৩ ওয়ার্ডে ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে গড়ে ৮জন করে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। এক্ষেত্রে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের তুলনায় সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩ ওয়ার্ডে গড়ে ২.১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডে ৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ঘুরে বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে অনীহার বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারের মহিলারা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তেমন একটা আগ্রহবোধ করছেন না।

নিবার্চনে সংরক্ষিত ১ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাত্র ২ জন প্রার্থী। তারা হলেন অটোরিকশা প্রতীক নিয়ে মরিয়ম বেগম এবং আনারস প্রতীক নিয়ে রাবিয়া বেগম। নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রতিবেদক কথা বলেন দু’প্রার্থীর সাথে। এই ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বি উভয় প্রার্থীর মধ্যে কেউই এসএসসি উত্তীর্ণ নন। পেশায় তারা গৃহিনী। তাদের নেই কোন সাংগঠনিক দক্ষতাও। কী কারনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন এমন প্রশ্নের উত্তর দু জনেরই উত্তর প্রায় অভিন্ন। ‘আমি কিছুই জানিনা, এলাকাবাসীর অনুরোধে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি’।

২ নং ওয়ার্ডে উষা রানী চন্দ (হারমোনিয়াম) মালিকা বেগম (আনারস), ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত পদে মধ্যে পিনা রানী কর (চশমা প্রতীক) রোশনা বেগম (অটোরিকশা) শুক্লা রানী দে (জবা ফুল) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত ২ নং ওয়ার্ডের ভোটার শিক্ষিকা রেহানা বেগম বলেন, পুরুষশাসিত সমাজে নারীর ক্ষমতায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় ফলে প্রত্যাশিত এবং যোগ্য মহিলারা প্রার্থী হতে অনিচ্ছুক রয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের সমাজে লজ্জাও একটা বিষয় হয়ে উঠছে ।

প্রাক্তণ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুমা চক্রবর্ত্তী নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, শিক্ষা, ঐশ্বর্য্যে বিয়ানীবাজার তথা আমাদের এতোদ্বঞ্চল অনেক এগিয়েছে। সময় এসেছে মেয়েদের সামনে এগিয়ে যাবার। প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচন হয়তো এ কারণে অনেকের মধ্যে জড়তা বিরাজ করছে। নির্বাচনের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে নিশ্চয় এ প্রজন্মেও মেয়েরা নিজেদেও যোগ্যতা প্রমাণে আরো বেশী এগিয়ে আসবে।