বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ১৪ মার্চ ২০১৭।

বহুল প্রতীক্ষিত বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকালে নির্বাচন কমিশন এ ঘোষণা দেন। আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েব সাইটে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনের তফশীল আপলোড করা হবে।

ঘোষিত তফশীলে ২৭ মার্চ মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। আজ মঙ্গলবার শেষ বিকালে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন আগামী ২৫ এপ্রিল গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। মোবাইল ফোনে নির্বাচন কমিশনের উপ সহকারি কমিশনার ফরহাদ আলম বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪কে বলেন, আগামীকাল কমিশনের ওয়েব সাইটে পৌরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত পুরো সিডিউল পাবেন। নির্বাচন ২৪ এপ্রিল গ্রহণ করার লক্ষে তফশীল ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা অবস্থান করা বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুক্কুর এ প্রতিবেদককে বলেন, আজ দিনের শেষ ভাগে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। কমিশনের দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ করে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত হলাম। আগামীকাল কমিশনের ওয়েব সাইটে নির্বাচন সংক্রান্ত সিডিউল প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিয়ানীবাজার পৌরসভা ২০০১ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হয়। বিয়ানীবাজার ইউনিয়নের পুরোটা এবং মুড়িয়া, মোল্লাপুর ইউনিয়নের আংশিক নিয়ে পৌরসভা গঠন করে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তফজ্জুল হোসেন উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রীট আবেদন করেন। আদালত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করে চেয়ারম্যানের মেয়াদকালীন সময়ে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন।

তফজ্জুল হোসেন পৌর প্রশাসক দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত ৭টি মামলা উচ্চ আদালতে দায়ের করা হয়। মামলা জটিলতায় পৌরসভার নির্বাচন আটকে থাকায় স্থানীয়রা পৌরসভা নির্বাচন দাবি আদায় পরিষদ গঠন করেন।

২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি অভিযোগ এনে পৌরপ্রশাসক তফজ্জুল হোসেনকে বরখাস্ত করে। তফজ্জুল স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করলে  ওই বছরের  ২০ জানুয়ারি আদালত তাকে স্বপদে বহাল করেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত মামলাসহ পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন রীট আবেদন এক সাথে খারিজ করে। এ সময় মামলার খরচ বাবত ১০০ টাকা কর্তনে রায় প্রদান করেন আদালত। আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেন পৌর প্রশাসক। একই বছরের নভেম্বর মাসে আদালত তাঁর রিভিউ খারিজ করেন।