যুক্তরাজ্য থেকে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে বিয়ানীবাজারে আগমনের দিন পৌর মেয়র আব্দুস শুকুরকে সংবর্ধনা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় পৌরসভা আওয়ামী লীগ। গত কয়েকদিন থেকে মেয়রকে সংবর্ধনা দেয়ার লক্ষ্যে পৌর শহর জুড়ে ২০টিও বেশি তোরণ তৈরী করা হয়। মেয়রকে সংবর্ধনা প্রদানের বিষয়টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এ সংবর্ধনার আয়োজনকে বাঁকা চোখে দেখেছিলেন।

এদিকে মেয়র আব্দুস শুকুর সংবর্ধনা নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় এসব তোরণে কাপড়- ব্যানার কিছুই লাগেনি। পৌরসভা আওয়ামী লীগও সংবর্ধনা সভার আয়োজন থেকে সরে যায়। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে পৌর শহরের উত্তর বাজারে সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

জানা যায়, পৌরসভা আওয়ামী লীগের কিছু অতি উৎসাহি নেতাকর্মী সংগঠনের দায়িত্বশীলদের বুঝিয়ে সংবর্ধনা আয়োজন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সংবর্ধনাকে ঘিরে পৌরশহরের বিভিন্ন জায়গায় বিশটিরও বেশি বাঁশের তোরণ তৈরী করা হয়। শেষ পর্যন্ত এসব তোরণে কাপড় ও ব্যানার লাগানো হয়নি।

পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদ বলেন, সংবর্ধনার বিষয়ে পৌর মেয়রের আপত্তি ছিল। তাঁর কথা- ‘‘কোন ধরনের সম্মানা নিয়ে আসলে পৌরবাসী মনে করলে সংবর্ধনা দেবে। আমিতো ব্যক্তিগত কারণে যুক্তরাজ্যে সফর করে ফিরে আসছি। এখানে সংবর্ধনার কোন প্রয়োজন নেই।’’

পৌর শহরে ২০টিরও বেশি তোরণ তৈরী করার বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদ বলেন, আমাদের উপলক্ষ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে অভিনন্দন জানানো ও সংবর্ধনা দেয়া। দ্বিতীয়বার ইউনেস্কোর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এবং বাংলাদেশ ইউনেস্কোর স্থায়ী পদ পাওয়া তাকে সংবর্ধনা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমাদের ইচ্ছা ছিল পৌর মেয়রকেও সংবর্ধনা প্রদান করবো। কিন্তু তিনি সংবর্ধনা নেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। আগামী ২৯ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী বিয়ানীবাজারে আসছেন। তাকে সংবর্ধনা প্রদান করার পাশাপাশি পৌরশহরের তোরণগুলোতে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার টানানো হবে। এ আয়োজন সকল মহলকে উপস্থিত থাকার আহবান জানান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।