বিশেষ প্রতিনিধি। ১৫ মার্চ ২০১৭।

বিয়ানীবাজার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন পৌরসভার নির্বাচনে তফশীল ঘোষণা করেন। ফলে পৌরসভা ঘটিত হওয়ার ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে পৌরবাসী।

তফশীল ঘোষণা দেয়ার খবর মঙ্গলবার রাতে বিয়ানীবাজারে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ অনলাইন পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশিত হলে অনেকে পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে আনন্দ প্রকাশ করেন। তারপরও পৌরবাসী নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। আজ দুপুরে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব ওয়েট সাইটে তফশীল প্রকাশ করলে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে পৌরবাসী আনন্দ উদযাপন করেন।

ঘোষিত এ তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ মার্চ, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৯ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৫ এপ্রিল। নির্বাচনকালীন রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন এবং সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন। বুধবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নির্বাচন পরিচালনা-২ এর উপসচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক অধ্যাদেশে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিয়ানীবাজার পৌরসভা ২০০১ সালে ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নীত হয়। বিয়ানীবাজার ইউনিয়নের পুরোটা এবং মুড়িয়া, মোল্লাপুর ইউনিয়নের আংশিক নিয়ে পৌরসভা গঠন করে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তফজ্জুল হোসেন উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রীট আবেদন করেন। আদালত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করে চেয়ারম্যানের মেয়াদকালীন সময়ে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন।
তফজ্জুল হোসেন পৌর প্রশাসক দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত ৭টি মামলা উচ্চ আদালতে দায়ের করা হয়। মামলা জটিলতায় পৌরসভার নির্বাচন আটকে থাকায় স্থানীয়রা পৌরসভা নির্বাচন দাবি আদায় পরিষদ গঠন করেন।

২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি অভিযোগ এনে পৌরপ্রশাসক তফজ্জুল হোসেনকে বরখাস্ত করে। তফজ্জুল স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করলে  ওই বছরের  ২০ জানুয়ারি আদালত তাকে স্বপদে বহাল করেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত পৌরসভার সীমানা সংক্রান্ত মামলাসহ পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন রীট আবেদন এক সাথে খারিজ করে। এ সময় মামলার খরচ বাবত ১০০ টাকা কর্তনে রায় প্রদান করেন আদালত। আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেন পৌর প্রশাসক। একই বছরের নভেম্বর মাসে আদালত তাঁর রিভিউ খারিজ করেন।