পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিয়ানীবাজার পৌরশহর এখন  মৌসুমি ভিক্ষুকদের হাটে পরিণত হয়েছে। পৌরশহরের সবকটি বিপণী মার্কেটসহ উত্তরবাজার থেকে দক্ষিনবাজার, এমনকি কলেজ রোডও বাকি নেই, সবকটি পয়েন্টে ১৫-২০ জন করে ভিক্ষুকের দেখা মেলে। ফলে ভিক্ষুকদের নিয়ে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

পৌরশহরের আল-আমিন সুপার মার্কেট, জামান প্লাজা, হাজী আব্দুস সাত্তার শপিং কমপ্লেক্স, আজির মার্কেট, আজির প্লাজা, নিউ মার্কেট, মুফসসিল মার্কেট, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মসজিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও দোকান-পাটের সামনে ভিক্ষুকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জামান প্লাজার বিপণন কর্মী জাকির হোসেন বলেন, ‘মার্কেটগুলোতে ভিক্ষুকদের উৎপাত এতটাই বেড়েছে যে ভিক্ষা না দিলে কাপড় ধরে টানাটানি শুরু করে দেয়। এতে আমাদের ক্রেতা সাধারনকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।’

সাজ্জাদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিয়ানীবাজার পৌরশহরে এখন অনেক মৌসুমি ভিক্ষুকের দেখা মেলে। বিভিন্ন মার্কেট ও মসজিদের সামনে দল বেঁধে বসে থাকে ভিক্ষুকরা। বিশেষ করে নামাজের সময় হলে তারা মসজিদের সামনে ভিড় করে। মুসল্লিরা বেরিয়ে গেলে আবার বিভিন্ন মার্কেটের সামনে চলে যায়।’

বিপণী মার্কেট জামান প্লাজার প্রধান সড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব আখলিছ আলী। তার বেশভূষা আর গালভর্তি দাঁড়ি দেখলে মনে হবে তিনি একজন আল্লাহওয়ালা লোক। অথচ আসরের আজান শুনার পরও মসজিদের দিকে তার পা বাড়ে না। এসেছেন সুনামগঞ্জ থেকে, তবে উপজেলার নাম কিংবা ঠিকানা বলতে রাজি হননি। একসঙ্গে কয়জন এসেছেন- এমন প্রশ্নের এড়িয়ে যান। অন্য আরেক প্রশ্নে তিনি বিব্রত হয়ে বলেন, ‘বাবা, সবার কাছে চাই না, দুয়েকজনের কাছে চাই।’

সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বিয়ানীবাজার’র সহ সভাপতি মাওলানা মোঃ কামাল হোসেন আল মথহুরী বলেন, ‘রমজান ও ঈদকে ঘিরে প্রবাসী অধ্যূষিত বিয়ানীবাজার পৌরশহরে মৌসুমি ভিক্ষুকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। মৌসুমি ভিক্ষুকদের কারনে আড়ালে থেকে যায় স্থায়ী ভিক্ষুকরা। এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’