কয়েক বছর আগেও সত্তর-আশি হাজার টাকার গরু কিনলে মানুষ দেখতে আসতেন। আর এখন একটি ছাগলের দামই হাঁকা হচ্ছে অনেক গরুর চেয়েও বেশি, তাও আবার ৭০ হাজার টাকা।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার বানিগ্রাম এলাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ান জাতের এ পাটনাই ছাগলটি হাটে নিয়ে এসেছেন মালিক মুন্না আহমেদ (২৫)। তিনি শখ করে পোষা এ ছাগলের নাম রেখেছেন ‘রবিন’। বিয়ানীবাজার পৌরসভার স্থানীয় মহলদার পরিচালিত পিএইচজি হাইস্কুল মাঠ পশুর হাটের সবচেয়ে বড় ছাগল এটি।

মঙ্গলবার সরেজমিনে পশুর হাটটিতে গিয়ে দেখা গেছে, গলায় ঘুঙুর দেওয়া বিশাল আকৃতির ছাগলটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, নানা জনের মধ্যে সৃষ্টি করেছে কৌতুহল। তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষেরা। চকচকে লাল-সাদা রঙের বিশাল আকৃতির ছাগলটি একনজর দেখছেন উৎসুক মানুষেরা। অনেকে আবার মোবাইলে চিত্র ধারণ করছেন।

ছাগলের মালিক তরুণ মুন্না বলেন, ‘আমার অতি আদরের এই ছাগলটির নাম ‘রবিন’। ওজন প্রায় ৮০ কেজি। রবিন প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ টাকার চাল ভুসি লাগে। ফ্যানের বাতাস ছাড়া ঘুমায় না। এটি এ হাটের সবচেয়ে বড় ছাগল। হাটে আনার আগে বাড়িতে অনেকে কেনার জন্য যোগাযোগ করছে। দামে বনেনি তাই দেইনি। বাড়তি লাভের আশায় বাড়ি থেকে বিয়ানীবাজার পশুর হাটে এনেছি। অনেকে দাম জিজ্ঞাসা করেছে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কেউ বলেনি। আজকে সকালে হাটে এনেছি, আশা করছি আজ বিকেলের মধ্যেই বিক্রি করতে পারবো।

উপজেলার অন্যতম প্রধান এ পশুর হাটে ঢুকতেই হাতের বামে পিএইচজি হাইস্কুল মাঠের গ্যালারীর পিছনের আঙিনায় আলাদা স্থানে পাওয়া যাচ্ছে নানা জাতের ছাগল। বিয়ানীবাজারসহ গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছাগল ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন রং ও ঢংয়ের ছাগল নিয়ে এসেছেনে এ হাটে। রবিন ছাড়াও আরোও কয়েকটি বড় ছাগল এ হাটে উঠেছে উঠেছে। সেসব ছাগলের দাম চল্লিশ থেকে ষাট হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

এদিকে, আগামীকাল বুধবার কোরবানির ঈদ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এ পশুর হাটে বইছে উৎসবের আমেজ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসেই গরু-ছাগল কিনছেন ক্রেতারা।