গত ৩১ আগষ্ঠ বিদ্যুৎ সংযোগ পান আলম আহমদ। গত সপ্তাহে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল দেখে তিনি হতবাক। বিদ্যুৎ বিলে উল্লেখ্য ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ব্যবহার করেছেন ৮২৫ ইউনিট। সব মিলিয়ে তিন রুমের ভবনের ৬দিনের বিদ্যুৎ ৬,৫০৫ টাকা। এছাড়াও গত মাসে সংযোগ পাওয়ার আগে সরবারহকৃত বিলে আসা ১৫৬ টাকা। সেই বিলও পরিশোধ করতে তাকে বলেছে বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের দায়িত্বশীলরা।

গত মে মাস থেকে বিয়ানীবাজার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকরা। মে মাসে গ্রাহকদের বিলে দ্বিগুল-তিনগুণ বিল আসায় অনেকেই অভিযোগ করেন। এতে তাদের বিল কাটছাট করা হয়।

এদিকে উপজেলায় লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়েই ইচ্ছেমত বিল তৈরী করে সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ এর বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিয়ানীবাজার নিউজ২৪ প্রকাশিত হয়। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, পল্লীবিদ্যুতের খামখেয়ালি পনার অবিযোগ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাদের উপর এ খড়গ নেমেছে। ইচ্ছা করেই পল্লীবিদ্যুতের দায়িত্বশীল এ আচরণ করেছেন।

সংবাদ মাধ্যমে সে প্রতিবেদনে আলম হোসেনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমি সেদিন সংবাদ মাধ্যমে সংযোগ পাওয়ার আগে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কথা না বললে আজ এ সমস্যা পড়তে হতো না। এখন কি করবো- বুঝতে পারছি না।

তিনি জানান, আমাদের ঘরে আগের অন্য একটি মিটার রয়েছে। আমাদের একত্রিত পরিবারের মিটারে প্রতিমাসে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত বিল আসতো। বর্তমানে নতুর ঘর তৈরী করায় আর সুযোগ থাকায় নতুন একটি মিটার নেই। কিন্তু সংযোগ পাওয়ার আগেই আমার বিল আসে ১৫৬ টাকা। এখন নতুন আসা বিলে দেখলাম ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যবহারের বিল এসেছে ৬৩৪৯ টাকা। এখন সব মিলেয়ে ৬ তারিখ আমার বিদ্যুৎ পাওয়ার ৬ দিন হলেও এই দিন পর্যন্ত আমার মোট বিল ধরা হয়েছে ৬৫০৫ টাকা। মাত্র ৬ দিনে আমার ৩ রুমের ঘরে এত টাকার বিল কিভাবে আসে তা দেখে আমি অবাক।

তার প্রতিবেশি সিপলু আহমদেরও একই অভিযোগ। মাত্র ৬ দিনের ব্যবহার করায় তার বিল এসেছে ১৬০০ টাকা।

এবিষয়ে অভিযোগ জানাতে ৩ দিন অফিসে ঘুরেও কোন দায়িত্বশীলের দেখা মিলেনি তাদের। ব্যস্থ, মিটিংয়ে আছেন, আপনার লাইনে সমস্যা এমন বিভিন্ন কারন দেখিয়ে প্রতিবারই তাদের ফিরেয়ে দেন লাইন ম্যান, বিল প্রস্তুতকারীরা।

বিদ্যুৎ অফিসের এমন অভিযোগের খবর নিতে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সকল গ্রাহকদের একই সমস্যা। প্রতিমাসের গড় বিলের চেয়ে এমাসে ৪ গুণ বেশি বিল এসেছে।

বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম বলেন, এটা আমাদের সমস্যা নয়। আমাদের মিটার ঠিকই আছে। চাইলে গ্রাহক মিটার পরীক্ষা করাতে পারেন। তবে তাকে এই বিল দিতে হবে। তিনি বলেন, গ্রাহকের ভবনের বিদ্যুৎ ওয়ারিংয়ের ত্রুটি থাকলে এমনটি হতে পারে। নতুন সংযোগ দেয়ার পূর্বে পল্লী বিদ্যুতের একজন ইনিস্পেক্টর ওয়ারিং যাচােই করে ছাড় পত্র দেন- এক্ষেত্রে ত্রুটি থাকা অবস্থায় ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে কি না বললে তিনি বলেন, আমরা সঠিকভাবেই সব কিছু করেছি। আমার মনে হয়েছে তিন রুমের একটি ভবনে এতো বিল আসার কথা না। তিনি ওয়ারিং ঠিক করার পর পরবর্তী মাসের বিলের সাথে আমরা সমন্বয় করে দেব।