বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ০৯ এপ্রিল ২০১৭।

বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম (উপব্যবস্থাপক) আজিজুর রহমান সরকারের নতুন কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ জেলায়। প্রায় তিন বছর তিনি বিয়ানীবাজারের দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে দালাল মুক্ত পল্লীবিদ্যুৎ অফিস এবং পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার বিনামূল্যে গ্রহাকদের দেয়ার নিয়ম চালু হয়। যদিও জাতীয় গ্রিড লাইনের ত্রুটির কারণে তাকে নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরী হয়েছিলো। অনেকেই প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছেন।

ডিজিএম আজিজুর রহমান সরকার ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর বিয়ানীবাজার অফিসে যোগদান করেন। আজ রবিবার তার শেষ কর্মদিন। তিন বছর বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্ব পালনের সময় অফিসের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও তিনি দায়িত্ব পালন থেকে পিছু হটেননি। এ তিন বছরে তাঁর বিরুদ্ধে নামে বেনামে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন কার্যালয়ে অসংখ্য অভিযোগ দায়ের করা হয়। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে এসব অভিযোগের সত্যতা পাননি। উল্টো তার কর্মস্পৃহা দেখে অভিনন্দিত করেছেন। বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুতের প্রথম ডিজিএম কামরুজ্জামান পরে আর কোন কর্মকর্তা এতো দীর্ঘ সময় এ অফিসে দায়িত্ব পালন করেননি।

বিদায় বেলায় আজিজুর রহমান সরকার বলেন, গ্রাহকরা যাতে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে কিংবা অফিসের বাইরে হয়রানির শিকার না হয়- সে দিকে আমার কঠোর নজর ছিল। চেষ্টা করেছি সৎভাবে অফিস পরিচালনা করতে। তিনি বলেন, এ দীর্ঘ সময়ে সাধারণ মানুষ খুশি থাকলেও দালালরা আমার উপর নাখুশ ছিল। তারপরও জাতীয় গ্রিড লাইনে বিভিন্ন সময় সমস্যা কারণে পল্লবিদ্যুতের গ্রাহকরা সমস্যায় পড়েছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা, বিদ্যুৎ সরবরাহ পাননি। আমি চেষ্টা করেছি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমি এবং বিয়ানীবাজার অফিস নিরুপায় ছিল। কারণ জাতীয়ভাবে সমস্যরা সৃষ্টি হলে বিয়ানীবাজার থেকে এর সমাধান করা কোন অবস্থা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সময় পেলে বিয়ানীবাজার বেড়াতে আসবেন। এখানকার মানুষজন এ তিন বছর আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমি সবার মঙ্গলকামনা করছি। এই সময়ে কাউকে কোনভাবে কষ্ট দিয়ে থাকলে নিজগুণে ক্ষমা করবেন।