বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ২৫ জানুয়ারি ২০১৭।

নিজু হত্যা মামলার আসামী বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের জামাল গ্রুপের চার নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেছেন। গত ১০ জানুয়ারি আদালতে জামিন আবেদন করলে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এদিকে নিজু হত্যা মামলার প্রধান আসামী জামাল হোসেনসহ মামলার অন্য আসামীরা শীঘ্রই আদালতে আত্মসমর্পন করবেন বলে বিশ্বস্থসূত্রে নিশ্চিত করেছে।

২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারে অটোরিক্সা (সিএনজি) স্টেশন নিয়ে প্রতিপক্ষ সাবুল আহমদের সাথে জামাল হোসেনের বাড়বিতণ্ডা ঘটে। এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে গুলিতে সবজি ব্যবসায়ী নিজুর মৃত্যু হয়।

আদালতে গত ১০ জানুয়ারি আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করে সায়দুল ইসলাম, হোসেন আহমদসহ ছাত্রলীগ জামাল গ্রুপের চার নেতাকর্মী। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সাবুল আহমদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন থেকে জামাল হোসেন আত্মগোপনের ছিলেন। অনেকটা রাজনীতির বাইরে ছিলেন এ ছাত্রনেতা। সংঘর্ষ ঘটনায় নিজুর পরিবার ও সাবুল আহমদের সাথে মধ্যস্থ লোকজনের মাধ্যমে জামাল হোসেনের সমঝোতা হলেও সম্প্রতি সিএনজি স্টেশনের একটি ঘটনায় সাবুল আহমদরা জামাল হোসেনের উপর ক্ষিপ্ত হন। তারা আদালতের দায়ের করা থানার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশীট নারাজি দিয়ে বাদ পড়া ৫ আসামী নাম যুক্ত করার জন্য আদালতের সরনাপন্ন হন। আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে বাদ পড়া ৫ আসামী নাম অন্তর্ভুক্ত করে জামাল হোসেনসহ আসামীদের ওয়ারেন্ট ভুক্ত করেছেন।

আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত হওয়ায় আত্মসমর্পন করা ছাড়া কোন উপায় নেই জামালসহ ছাত্রলীগের একঝাঁক নেতাকর্মীদের। তারা আগামী মাসের যে কোন সময় আদালতে আত্মসমর্পন করবেন- সেরকম আভাস দিয়েছেন মামলার একজন আসামী ছাত্রলীগ নেতা।

ছাত্রলীগ নেতা কলিম উদ্দিন বলেন, আত্মসমর্পন করে আদালতের কাছে জামিন আবেদন করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আইনজীবীদের সাথে আলাপ করা হচ্ছে। আশা করি আদালত আমাদের আবেদন বিবেচনা করবেন।

এদিকে এ মামলায় জামাল হোসেনের চাচাতো ভাইসহ চারজনকে ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে আটক করে পুলিশ। তিন মাস জেল হাজতে থেকে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।