বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অফিস সহকারি ব্রজেশ্বর দাসের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর পরিক্ষা মূল সার্টিফিকেটে মা-বাবার নাম সংশোধনের কথা বলে মূল সার্টিফিকেট হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রোববার (২৬ জুন) বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. বেলাল আহমেদ।

অভিযোগ সূত্রে থেকে জানা গেছে, উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গমনের জন্য শিক্ষার্থী মো. বেলাল আহমেদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরিক্ষার সার্টিফিকেটগুলোতে মা-বাবার নাম সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়ায় তিনি কলেজের অফিস সহকারি পদে কর্মরত ব্রজেশ্বর দাসের শরনাপন্ন হন। সবশুনে ব্রজেশ্বর দাস ওই শিক্ষার্থীকে সন্ধ্যায় অন্যত্র দেখা করতে বলেন। পরে সন্ধ্যায় দেখার করে ব্রজেশ্বর ওই শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ৪৫ দিনের মধ্যে সবগুলো সার্টিফিকেট সংশোধন করে দেয়ার প্রস্তাব দেন এবং ওই শিক্ষার্থী ব্রজেশ্বরের সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। কিন্তু ব্রজেশ্বর তারই বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেও সার্টিফিকেটগুলো সংশোধন করে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই মাস পর ওই শিক্ষার্থী কলেজের অফিসে গিয়ে ব্রজেশ্বরকে না পেয়ে তার বাসায় ছুটে যান। কিন্তু ব্রজেশ্বর শিক্ষার্থী মো. বেলাল আহমেদকে ‘কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যাবেন’ জানিয়ে মূল সার্টিফিকেট দিতে বলেন। এরপর মূল সার্টিফিকেটগুলো দেয়ার এক সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ওই অফিস সহকারির কোন সন্ধান পাননি বেলাল। পরে বিষয়টি তিনি কলেজের উপাধ্যক্ষকে অবগত করেন এবং উপাধ্যক্ষের সামনে ওই অফিস সহকারি পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট ফেরত দিবেন বলে জানান। এ ঘটনার পর ওই অফিস সহকারি নিজের দেয়া সেই তারিখেও কথা রাখতে ব্যর্থ হন।

এদিকে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরিক্ষার মূল সার্টিফিকেটগুলো না পাওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর যুক্তরাজ্যে উচ্চ শিক্ষার জন্য সেপ্টেম্বর সেশন ধরতে পারা না পারা নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী বেলাল আহমেদ ও তার স্বজনরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

বেলাল আহমদ জানান, উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার জন্য তার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির সার্টিফিকেটগুলো ফেরত পাওয়াটা খুবই জরুরি। তাছাড়া যথাসময়ে সেপ্টেম্বর সেশন ধরতে না পারলে তার প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যদিকে, সার্টিফিকেট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অফিস সহকারি ব্রজেশ্বর দাস। তিনি বলেন, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংযুক্তিসহ যেকোন শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেটের কোন কিছু সংশোধন করতে হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসে প্রেরণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। তবে একটু খরচের মাধ্যমে অন্যভাবে চেষ্টা করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সার্টিফিকেট সংশোধন করা যায়। আর আমি সেই চেষ্টা করেছিলাম।

অভিযুক্ত ব্রজেশ্বর দাস আরও বলেন, সংশোধিত সার্টিফিকেটগুলো ওই শিক্ষার্থীকে ফেরত দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে সার্টিফিকেট সংশোধন করে দেয়ার নামে কোন টাকা নিইনি।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিল্লোল রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।