বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও খামখেয়ালি পনায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটান ঘটে। নবজাতকের নাড়িভুরি বেরিয়ে রয়েছে। এতে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালে ভীড় করছেন। তবে দায়িত্বশীল ডাক্তারের মতে- এটি ‘ওমপাওলোসি’। এটি নবজাতকের এক ধরনের রোগ।

জানা যায়, জকিগঞ্জ এলাকার নজির আহমদ প্রসুতি স্ত্রীকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নজির আহমদ বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউনিয়নের একটি মসজিদে ইমামতি করেন। ইমামের স্ত্রী মমতা বেগমের প্রসুতি ব্যথা দেখা দিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত সেবিকা ফাদিয়া বেগম অন্যদের সহযোগিতায় লেবার রুমে নিয়ে যান। সেখানে অনেকক্ষণ চেষ্টার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে নবজাতকের জন্ম হয়। নবজাতকের নাড়িভুরি বেরিয়ে রয়েছে দেখে লেবার রুমের সবাই আঁতকে উঠেন। শিশুর এ অবস্থা দেখে প্রসুতির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠে। তার চিকিৎসা চলছে।

নবজাতকের এ অবস্থা দেখে তার স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ইমাম নজির আহমদ বলেন, শিশুটি সুস্থ ছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরিক্ষায় সেটি পাওয়া গেছে। কিন্তু অদক্ষ সেবিকা ও আয়া আমার বাচ্চাটি হত্যা করেছে।

প্রসুতি মমতা বেগম বলেন, ‘জন্মের পূর্ব পর্যন্ত আমি বাচ্চা নড়াচড়া পেয়েছি। বিষয়টি নার্সকে বলেছিও। কিন্তু তারা আমার পেটে দীর্ঘ সময় চাপ দিয়ে, পেটের উপর হাতের আঙ্গুল দিয়ে খুচিয়ে বাচ্চা বের করার চেষ্টা করেন। আধ ঘন্টা চেষ্টার পর বাচ্চা বের করে আমার পেটের উপর রেখে নার্স বলেন, “ বাচ্চাটি নড়াচড়া করছে কিন্তু তার নাড়িভুরি সব বেরিয়ে আসলো।” এরপর তারা লেবার রুম থেকে বাচ্চা নিয়ে বেরিয়ে যান।’

হাসপাতালের চিকিৎসক (এমও) শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এরকম ‘ওমপাওলোসিতে’ আক্রান্ত নবজাতক মৃতই জন্ম নেয়। এটির চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। এ রকম নবজাতক প্রতি ৪হাজারে একজনের জন্ম হয়। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা যারা দায়িত্ব পালন করছি- তাদের সময়ে এ রকম নবজাতকের জন্ম এটিই প্রথম। আমার জীবনে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। আমি শিক্ষাজীবনে এ রকম এক নবজাতক পেয়েছিলাম। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওমপাওলোসি’ হচ্চে, নবজাতকের পেটে চামড়া তৈরী হবে না। তার নাড়িভুরি হালকা একটি আবরণে ভেতরে পেটের বাইরে ঝুলে থাকে। যেটি জন্মের সময় ফেটে যায় এবং গর্ভাবস্থায় নবজাতকের মৃতু হয়।