দেশে আবারও করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব সরকারি-আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করা হয়েছে ‘নো-মাস্ক নো-সার্ভিস’ পলিসি। মানুষকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করতে মাঠপর্যায়েও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক না পরলে করা হচ্ছে জরিমানাও। তাই ঘরের বাইরে বের হলে সঙ্গে একটি মাস্ক রাখছেন সবাই। এতে বাজারে মাস্কের চাহিদা ও বিক্রি দুটোই বেড়ে গেছে। এ সুযোগে সব ধরনের মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কেন দাম বাড়ছে- এমন প্রশ্নের কোনো যৌক্তিক জবাবও দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে কয়েকদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে তৎপর বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসন। গত তিন দিন ধরে পৌরশহর ও চারখাইসহ বিভিন্ন স্থানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। অভিযানে সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরা না থাকলে গুণতে হচ্ছে জরিমানা। যা অনেকের জন্য অপমানজকও। এতে করেই মানুষের মধ্যে বেড়েছে সচেতনতা। জনসাধারনের মধ্যে বেড়েছে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা। অন্যদিকে, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারা বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে শুরু করে দিয়েছেন। সচেতন মহলের দাবি, মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও যেন প্রশাসন কঠোর হয়।

সরেজমিনে পৌরশহরসহ উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও মানুষের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে অনিহা ছিল। কিন্তু হঠাৎ মানুষের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। গাড়ি চালক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পথচারী- প্রায় সবার মুখেই মাস্ক। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ছিলো উল্টো চিত্র। অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করতেন না। আর এমন সুযোগে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারা বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে শুরু করেছেন। খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। আগে ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাপড়ের মাস্কের দামও এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ফিল্টার মাস্ক এখন আর ততটা পাওয়া যায় না। সেটার দামও পিসপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। আগে ২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এছাড়া কেএন-৯৫ মাস্কের দাম ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এন-৯৫ মাস্কের দাম ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় মিলছে এ মাস্ক।

পৌরশহরের নিমতলার বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, মাস্ক না পরলে এখন জরিমানা করছে মোবাইল কোর্ট। মার্কেট, হাসপাতাল, অফিসসহ সবখানে মাস্ক পরতে হবে। তাই সব শ্রেণির মানুষ এখন মাস্ক সংগ্রহ করছে। এতে চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। এ সুযোগে সরবরাহকারীরা মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেবুল উদ্দিন সেবু নামের একজন পথচারী বলেন, আগে দেখতাম মানুষ মাস্ককে ভুলেই গেছে। কিন্তু দুই একদিন ধরে দেখা গেছে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। তিনি জানান, ব্যবহার বাড়ায় অনেক বিক্রেতা ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দরে মাস্ক বিক্রি করছেন। এসব বিষয়েও প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত।

কামরুল ইসলামের নামের এক চাকুরীজীবী বলেন, প্রথম ধাপে করোনার পর মানুষের মনের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার কমে গিয়েছিল। প্রশাসনের তৎপরতার এখন মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। এতে করে মাস্কের ব্যবহার যেমন বেড়েছে তেমনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। এই অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।