করোনা সংক্রমণ রোধে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সরকার চতুর্থ দফা লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে। সাথে বিধিনিষেধ। এর মধ্যেও গত ২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলার নির্দেশনার পর থেকেই দোকানপাট ও শপিংমলগুলোতে বাড়ছে ভিড়। এ কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের সড়কেও প্রচণ্ড যানজট দেখা গেছে। আর এসব কারণে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন শিথিল হয়ে পড়ছে।

রোববার (৩ মে) পৌরশহর প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন শপিংমল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে ছোট-বড় গণপরিবহণ ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পৌরশহরের প্রধান সড়কসহ কলেজ রোড ও মোকাম রোডে যানবাহনের বিপুল চাপ দেখা গেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

সোমবার দুপুর থেকে পৌরশহরের দোকানপাট ও শপিংমলগুলোতেও প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। আল আমিন শপিং কমপ্লেক্স, হাজী আব্দুস সাত্তার শপিং কমপ্লেক্স, জামান প্লাজা ও আজির মার্কেটের বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে শপিংমল খোলার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। মূলত ঈদকে সামনে রেখেই ক্রেতাদের সমাগম বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি রয়েছে। আর লোক সমাগমের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু শপিংমলগুলোর কিছু দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেককেই মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। আবার অনেককেই মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। এছাড়া, কিছু মার্কেটের প্রবেশ পথে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখতেও দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এতদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় আমাদের বেশ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ উঠাতে না পারায় এখন ঋণ করে আবার দোকান চালু করতে হয়েছে। তবে এখন বিক্রি কিছুটা ভালো। ঈদের আগ পর্যন্ত যদি এভাবে চলে তবে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

শুধু পৌরশহরের প্রধান প্রধান মার্কেটই নয়, শহরের প্রধান সড়কের পাশ ঘেষে গড়ে উঠা ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় বিক্রেতাদের। তারা জানান, গত  কয়েকদিনে বেচাবিক্রি কিছুটা বেড়েছে। এতে করে বিগত কয়েকদিনের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার শর্তে খুলে দেওয়া হলেও বিয়ানীবাজারের মার্কেটগুলোতে তা দেখা যায়নি। কেনাকাটার তোড়জোড়ে অধিকাংশ দোকানই ছিল মানুষে ঠাসা। নেই সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই। শুধু মার্কেটগুলোর ভেতরে দোকানই নয় বরং মানুষে ঠাসা ছিল ফুটপাতের দোকানগুলোও। তবে ক্রেতারা বলছেন, আবারও কঠোর লকডাউনে শপিংমল বন্ধ ঘোষণার আশঙ্কায় আগেভাগেই ঈদের শপিং সেরে নিচ্ছেন তারা।

করোনা সংক্রমণ রোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় ৭ দিনের জন্য ‘বিধিনিষেধ’ শুরু হয়। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ ঘোষণা করে সরকার। যা চলে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। পরে ২১ এপ্রিল তারিখ থেকে আরেক দফায় এই বিধিনিষেধ বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল করা হয়। সেটিও বাড়িয়ে তা ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ চলমান লকডাউন আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

দীর্ঘ সময় দোকান খোলা রেখে কাজ করতে চান বিয়ানীবাজারের দর্জি দোকানিরা