টানা বৃষ্টিতে ব্যস্ততম বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর মিনারাই অংশের সড়কের এক পাশের পাড় ধসে পড়েছে। ধস নামার কারণে সড়কের বেশ কিছু জায়গাজুড়ে বড় আকারে ফাটল ও গভীর খাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কটি ব্যবহার করা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি ধসে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যাবার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিক্ব, ঝুঁকিপূর্ণ সেই সড়কটির ধস নামা ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটিতে প্রথম দফায় বাঁশের বেড়া স্থাপন করেও ধস নামা থামাতে পারেনি স্থানীয় প্রকৌশল অফিস। সর্বশেষ দ্বিতীয় দফায় নতুন সংস্কার করা ওই সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশে পুনরায় বাঁশের বেড়া স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন সংস্কার হওয়া এই সড়কের একাধিক স্থানে ধস নামা ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সোয়া ৪ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের প্রথম চার কিলোমিটারেরও বেশি অংশ সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ মেসার্স রাশিদুজ্জামান পিটার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। করোনা পাদুর্ভাবের অজুহাতে বেশ কয়েক দফা কাজ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হয়।

সরেজমিনে বুধবার বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত সেই স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের বেড়া দিয়ে পুনরায় সংস্কার করার কাজ করছেন ৪জন শ্রমিক। আলাপকালে বয়স্ক এক শ্রমিক জানান, ঠিকাদার তাদেরকে এখানে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনানুযায়ী বাঁশের বেড়া স্থাপন ও মাটি ভরাট করে রাস্তাটি আপাতত সংস্কার করছেন তারা।

সংস্কার কাজ শেষ হবার ৫ মাসও পূর্ণ হবার আগেই সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েক দফায় সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস ও ফাটল ধরার পর গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার সড়কটির মিনারাই অংশে সড়কের এক পাশের পাড় ধসে পড়েছে। এতে বেশ কিছু জায়গাজুড়ে বড় আকারে ফাটল ধরায় সড়কটি ব্যবহার করা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোন সময় ভারি যানবাহন সড়কের পিচ ঢালাইসহ ধেবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে গাইডওয়াইল নির্মাণ করা প্রয়োজন সেখানে সেটা না করে বাঁশের বেড়া দিয়ে সড়কের ধস নামা ঠেকানোর চেষ্টা করছে উপজেলা প্রকৌশল অফিস। ভারী যান চলাচল করলেই সড়কটি পুনরায় ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঠিকাদার ‘যেমন ইচ্ছে তেমন’ করে কাজ করেছে। ইতোমধ্যে এ সড়কের বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল ও ধস নেমেছে।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশল অফিসের প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে সড়কটি রক্ষার্থে বাঁশের বেড়া স্থাপন ও সেখানে মাটি ভরাট করেছে। তবে সড়কটির ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী পদক্ষেপ স্বরূপ ওই স্থানে একটি গাইডওয়য়াইল নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

সড়কটিতে বার বার কেন ধস ও ফাটল দেখা দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাশের খালে প্রবল স্রোত থাকায় সড়কের পাড় ভেঙ্গে গেছে। সংস্কার কাজে কোন ত্রুটি ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মিনারাই ও কদুগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কে ধস নামা স্রেফ দুর্ঘটনা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

ফের বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কে ধস!