বিয়ানীবাজার উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০৭জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব শিক্ষক শূন্য পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৫৪টি এবং সহকারি শিক্ষকের ১৫৩টি পদ রয়েছে। শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষক শূন্যতা পুরণ করতে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থে খন্ডকালিন শিক্ষক নিয়োগ দিলেও এসব শিক্ষকের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াদীন থাকলেও উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি রীট আবেদন থাকায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছে না। আইনি জটিলতা লাঘব না হওয়ায় উপজেলার প্রধান শিক্ষকের ৫৪টি শূন্য পদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে।

উপজেলা তিলপাড়া ইউনিয়নের বিবিরাই, তিলপাড়া, সানেশ্বর, দেবারাই, আলীনগর ইউনিয়নের খলাগ্রাম, চারখাই ইউনিয়নের হাজড়াপাড়া, চারখাই, শেওলা ইউনিয়নের দিঘলভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদশূন্য রয়েছে। উপজেলার ১৫৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নতুন সরকারি হওয়া বিদ্যালয়গুলোতে  ১৫৩জন সহকারি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। সহকারি শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম স্বচল রাখতে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন।

মাথিউরা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথিউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুরমান আলী বলেন,েএক বছরের বেশি আগে আমাদের এক সহকারি শিক্ষক মৃত্যুবরণ করলে তার পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে আমরা এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিদ্যালয়ে একজন খন্ডকালীন শিক্ষক রাখা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল শিক্ষকদের পাঠদানে সহযোগিতা করছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতির মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক এবং ৩৫ শতাংশ মন্ত্রণালয়ের নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদ পুরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু উচ্চ আদালতে শিক্ষকের পদোন্নতি বিষয়ে একটি মামলার নিষ্পতির পর রীট আবেদন করায় তিন মাসের জন্য পদোন্নতি প্রাপ্ত শিক্ষকের নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সহকারি শিক্ষকের ১৫৩টি শূন্য পদের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুম মিয়া বলেন, সহকারি শিক্ষক পদে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেয়া হলে এসব শূন্য পদ পুরণ হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতে রীট থাকায় প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে।