মাত্র ২২ ঘর হিন্দুর বাস দেড় শতাধিক পরিবারের এই গ্রামে। অথচ এখানে ধর্ম একটাই- মানবধর্ম। দীর্ঘ দিন ধরে মহল্লাটিতে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষজনই নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছেন। এমনকি দুই ধর্মের দুজন ব্যক্তির একসঙ্গে চলাফেরা, উঠাবসা দেখেও কেউ বুঝতেই পারবেন না কে হিন্দু, আর কে মুসলিম। গ্রামের এক কোন ঘেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বাস করলেও তাদের বাড়ির আঙিনা ঘেষে রয়েছে একটি মসজিদ। সেই মসজিদে নামাজের সময়সূচীর সাথে সমন্বয় করেই হিন্দু পরিবারগুলোতে চলে পূজা-আর্চনা।

দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমন নজির চলে আসছে বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের তিলপাড়া গ্রামে।

গোটা বিশ্বে যখন ধর্মে ধর্মে রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে তখন প্রতিদিন এ মসজিদে যেমন মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন, তেমনি পাশের হিন্দু বাড়িগুলোতে চলছে ভক্তদের পূজা আর্চনা। গত প্রায় এক যুগেরও বেশিবসময় ধরে এখানকার হিন্দুরা প্রতিবছরই বেশ ঝাকজমকভাবে দূর্ঘোৎসব পালন করে আসছেন। গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, তারা একইগ্রামের মানুষ। তাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই। ধর্ম পালনে নিজেদের মধ্যে তারা সমন্বয় করে নেন।

হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যকার প্রীতি ও ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ ওই মসজিদের ইমাম। তিনি জানান, এমন দৃশ্য যদি সারাবিশ্বে থাকতো তাহলে ধর্ম নিয়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হতো না। বিরাজ করতো শুধু শান্তি আর শান্তি।

মসজিদে আজান ও নামাজের সময়টাতে হিন্দু বাড়িগুলোতে পূজার্চনা হলেও কোনো ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই একই আঙিনায় একই সঙ্গে মুসলিম ও হিন্দুরা নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছেন। সারাবিশ্বে যদি ধর্মীয় সহিংসতা বাধে তবুও এখানকার ধর্মীয় সম্প্রীতি থাকবে অটুটগ এমন প্রত্যাশা উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

https://youtu.be/Ta7695hRnds