বিয়ানীবাজারে সংঘবদ্ধ হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্র শিবির । রাজনৈতিকভাবে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে ভিন্ন পথে এগুচ্ছে দলটি। বর্তমান প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে আওয়ামী দুর্গে হানা দিচ্ছে জামায়াত। তাদের সে পরিকল্পনা প্রাথমিক লক্ষ্যও এরই মধ্যে সম্পন্ন করে ফেলেছে দলের দায়িত্বশীলরা- এমন আভাস পাওয়া গেলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে। প্রাথমিক পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ভিত্তিক দুর্গে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা।

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি কয়েকটি ইউনিয়নে সংগঠনের প্রার্থীতা দেবে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। এ প্রচারণার ক্ষেত্রে লাউতা, মুড়িয়া, মাথিউরা, কুড়ারবাজার ইউনিয়নে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। থেমে নেই চারখাই ও আলীনগর ইউনিয়নে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা। এসব তৎপরতার মধ্যে আওয়ামী লীগের দূর্গ বলে পরিচিত এলাকায় নিজেদের অবস্থান তৈরী করতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিয়ানীবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কৌশলী তৎপরতা বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে সবারই জানা। তাদের নতুন কৌশলী রাজনীতির মাঠে নিষ্ক্রিয় থেকে ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি গঠন করা। একটি তথ্য থেকে এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে করোনা মহামারি এ সময়ে লকডাউনে জামায়াতের কর্মপরিকল্পনা।

উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী দূর্গ হিসাবে মাথিউরা ইউনিয়ন অন্যতম। জামায়াতের বর্তমান পরিকল্পনা এ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড রয়েছে। ইউনিয়নের পুরুষপাল গ্রামের কেন্দ্রে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে কোনদিন নৌকা হারেনি। সারা দেশে নৌকার ভরাডুবি হলেও ২র্ন ওয়ার্ড পুরুষপাল কেন্দ্রে নৌকার শতভাগ বিজয় নিশ্চিত ছিল। সেখানে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরীর প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করে ফেলে জামায়াতে ইসলামী। ওয়ার্ড জামায়াত ও ওয়ার্ড ছাত্র শিবিরের কমিটি গঠন করে প্রাথমিক এ ধাপকে তাদের পরিকল্পনার চুড়ান্ত বিজয় বলেই মন্তব্য করেছেন ইউনিয়ন জামায়াতে এক দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, সরকারের দমন নিপীড়নের মধ্যে জামায়াত তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুরুষপাল ওয়ার্ড জামায়াত ও ওয়ার্ড ছাত্র শিবিরের কমিটিতে ৭জন করে স্থান দেয়া হয়েছে। তাদের একটি রোডম্যাপ করে দিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে দায়িত্বশীলরা। সে অনুযায়ী ওয়ার্ডের নতুন দায়িত্বশীলরা নিরবে কাজ করবেন। দলটির উপর স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কিংবা রাজকার আলবদরের যে তকমা রয়েছে সেই অবস্থায় পুরুষপালের মতো এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড কমিটি করতে বেগ পেতে হয়নি প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বলা যতটা সহজ কাজটি ততোটা সহজ ছিল না। গত দেড় বছর থেকে আমরা চেষ্টা চালিয়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত এই করোনাকালে এসে  আমাদের চেষ্টার সফল হয়েছে। তবে এখনি এ বিষয়টি আমরা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। কমিটিতে কারা আছেন সেটি যেমন গোপন থাকবে, তারা কিভাবে কাজ করবেন সেটিও প্রকাশ পাবে না। আপাতত কেউ এ বিষয়টি জানতে পারবে না। তবে আমাদের অবস্থান শক্ত হলে নিজে থেকে বিষয়টি প্রকাশ করা হবে। তিনি এ তথ্য প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পুরুষপাল এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জিলু বলেন, মৌনভাবে জামায়াত সমর্থন করেন এরকম দু’একজন এলাকায় আছেন। তবে তারা রাজনীতিতে সক্রিয় নয়। এছাড়া ছাত্র শিবিরের কমিটি করার মতো ছাত্র পাওয়ার কথা নয়। সেরকম কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। এমনটি হলে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি ভাবতে হবে।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন বলেন, জামায়াত কিংবা শিবির মৌনভাবে সমর্থন করেন এমন গুটি কয়েক লোকজন আছেন। তবে তারা সক্রিয় রাজনীতি করেছেন সে রকম কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।