বর্তমান সময়ে ই-সাইকেল তরুণদের মাঝে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু আমদানিকৃত বিদেশি ই-সাইকেলের দাম আকাশচুম্বী। ফলে সাধ থাকলেও সাধ্য হয়ে ওঠে না। এমন পরিস্থিতিতে সাইকেল চলছে মোটর ইঞ্জিনে- এমন দৃশ্য দেখে অবাকই হন অনেকেই। আর মানুষকে চমকে দিতে খুব ভাল লাগে শৌখিন বাইকারদের।

এমনই এক শৌখিন বাইকার হলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের শৌখিন তরুণ কাওছার আহমদ।প্যাডেলে নয়, বাইসাইকেল চলবে মোটর ইঞ্জিনে- এমন স্বপ্ন তার দীর্ঘদিনের। শখের বাইসাইকেলে ইঞ্জিন সংযোজন করে এলাকা, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে বাহবা কুড়াচ্ছেন কাওছার আহমদ।

কাওছার আহমদ, জানান ব্যতিক্রমী কিছু করে সবাইকে চমকে দেয়ার লক্ষ্য থেকে ইউটিউবের ভিডিও দেখেই নিজের বাইসাইকেলকে মোটরসাইকেলে রূপান্তর করে চমক সৃষ্টি করেছেন কাওছার। মোটর সংযোজিত তার সাইকেলটি পথিমধ্যে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে প্যাডেল ঘুরিয়েও বাকি পথ পেরুনো যায়।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কাওছার জানান, প্রথমে ১৪ হাজার টাকা দিয়ে বাইসাইকেল ক্রয় করেন তিনি। তারপর অনলাইন ঘেটে ক্রয় করেন ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। এরপর সবকিছু নিয়ে হাজির হন মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপে, কিন্তু বাধ সাধেন মোটর মেকানিকরা। বিয়ানীবাজারের মোটর সাইকেল মেকানিকের অনেকেই সাইকেলে ইঞ্জিন সংযোজনে রাজি হননি। কেউ কেউ এ নিয়ে তাচ্ছিল্লও করেছেন কাওছারকে। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে নিজেই কাজে লেগে যান তিনি। অল্পদিনে বাইসাইকেলটি রূপ পায় স্বপ্নের মোটর সাইকেলে।

কাওছার আরও জানান, তাঁর ই-সাইকেলটি ৮০ সিসির। সাইকেলে মোটর যন্ত্রাংশ থাকলেও নেই ব্যাটারি। আছে ২ লিটার জ্বালানি ধারণক্ষম ট্যাংক। রাতে অন্ধকার পথ চলার জন্য এলইডি লাইট এবং পথচারীদের সতর্ক করার জন্য হর্ণও আছে সাইকেলে। এই বাইসাইকেলটি নিয়ে সর্বত্র যাতায়াত করা কাওছার জানান, আগামীতে সাইকেলটি আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে তরুণের চমক- 'বাইসাইকেলে মোটর সংযোজন'