সিলেট-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের জলঢুপ এলাকার বিপদজনক বাঁকে বছরে একাধিক দুর্ঘটনায় ঘটছে প্রাণহানি। সড়কের ওই অংশে জলাবদ্ধতা ও গর্তের কারণে বার বার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে জানিয়ে স্থানীয়রা সড়ক ও জনপথের দায়িত্বশীলদের অবহেলাকে দায়ি করেছেন।

গতকাল বুধবার (১লা সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট-বিয়ানীবাজারে-বারইগ্রাম সড়কের জলঢুপের বিপদজনক বাঁক এলাকায় অজ্ঞাত যানের চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যান স্কুল শিক্ষক আয়ুব আলী। তিনি মোটর সাইকেলে করে বিয়ানীবাজার থেকে বড়লেখায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিহত স্কুল শিক্ষক আয়ুব আলী বড়লেখা উপজেলার তারাদরম গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের পুত্র। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ইসলামী শিক্ষক। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ঘাতক গাড়ি কিংবা চালকের সন্ধান পায়নি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ সময় নিহত শিক্ষকের লাল রঙের পালসার মোটর সাইকেলটি (সিলেট-ল-১১৪৮৭০) থানা নিয়ে আসে।

সড়কের উপর প্রথম লাশ দেখতে পেয়ে স্বজন ও পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় যুবক খায়রুল আলম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে দ্রুত গতির একটি পিকআপ ভ্যান তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। তার ধারণা ওই পিকআপ ভ্যানটি স্কুল শিক্ষককে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন ঘটনাস্থলের পাশে সড়ক ভেঙ্গে বিশাল আকৃতির গভীর একটি গর্ত হয়েছে। গর্তের কারনে রাস্তার এক তৃতীয়াংশ অংশ অনেকটা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ঝুকিপূর্ণ বাঁকটিতে এমন মারাত্মক গর্তের কারনে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির সাথে প্রায়ই ধাক্কা লাগে। এ পর্যন্ত অনেকেই আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সামসুল হক বলেন, সড়কের জলঢুপ এলাকার ওই বাঁকে (চালতা গাছের বাঁক) বছরে একাধিকবার মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যেকটি ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও বিপদজনক বাঁক এলাকার সড়ক সংস্কার কিংবা গতিরোধক দেয়া হচ্ছে না। তিনি সওজ এর দায়িত্বশীলদের কারণে জলঢুপ এলাকায় প্রাণহানি ঘটছে বলে দাবি করেন।

সড়ক ও জনপদের উপ সহকারি প্রকৌশলী মোঃ আতাউর রহমান বলেন, রাস্তার মধ্যে এত বড় গর্ত আছে আমার জানা নেই। আগামীকালকের মধ্যেই এটি সংষ্কার করা হবে।

এবিটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

বিয়ানীবাজারের জলঢুপ সড়কের ‌ছালতা গাছের মোড় এখন মরণ ফাঁদ! প্রাণ হারালেন শিক্ষক