বিয়ানীবাজারের জলঢুপ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার শ্রেণি কক্ষে সহপাঠীর সাথে বাকবিত-ার জের ধরে বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক তাকে বেত্রাঘাত করে আহত করেন। আতংকিত হয়ে আহত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন আহমদ মামুন গত শনিবার স্কুল চলাকালে সহপাঠীর সাথে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ওই সহপাঠী সহকারি প্রধান শিক্ষক মুছব্বির আলীর কাছে বিচার দেয়। শিক্ষার্থী আল আমিন আহমদ মামুনকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে বেত্রাঘাত করেন। শিক্ষকের তিনদফা প্রহার আল আমিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। আহত শিক্ষার্থী মামুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার উপর নির্যাতন করার বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কামিল আহমদকে অবহিত করেন। তিনি বিষয়টি দেখিয়ে দেয়ারও আশ্বাস দেন।

গত তিনদিন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় শিক্ষার্থী মামুন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করে গত সোমবার অভিযোগ দায়ের করে।

শিক্ষার্থী মামুনের বড়ভাই মারুফ আহমদ বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি কামিল আহমদ, অভিযুক্ত শিক্ষক মুছব্বির আলীসহ কয়েকজন শিক্ষক বাড়িতে এসে তাকে দেখে গেছেন। সভাপতি কামিল আহমদ ঘটনাটি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির আশ^াস দিলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। মারুফ জানান, তার ছোটভাই আতংকের মধ্যে আছে। সে ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলরা চেষ্টা করছেন।

অভিযুক্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক মুছব্বির আলী বেত্রাঘাতের ঘটনার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন- ‘একজন শিক্ষক হিসেবে আমি দুষ্টুমী করার জন্য তাঁর উপর বেত দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছি। কিন্তু পরে যখন শুনলাম বেত দিয়ে আঘাত করার কারণে সে অসুস্থ পড়েছে তখন আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে তাঁর অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করি এবং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করি। সত্যি আমি খুব লজ্জা পেয়েছি।’

এ প্রতিবেদক বিদ্যালয় পরচালনা পর্ষদের সভাপতি কামিল আহমদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে আহত শিক্ষার্থীর বাড়ি যাওয়ার বিষয়টি জানালেও বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন এ ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন- ‘তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, আজ মঙ্গলবার সকালে আমি অভিযোগ পেয়েছি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করার আইনীভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও এখানে এটি প্রাই ঘটছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে এবং একই সাথে বিদ্যালয়ের প্রধানদের এসব বিষয়ে সকর্ত করা হবে।