বিশেষ প্রতিনিধি। ১৭ জানুয়ারি ২০১৭।

বিভিন্ন শ্রেণির পেশার ২৫/৩০ পুরুষ-মহিলার কাছ থেকে লাভ দেখিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়েছে গ্রামের জামাই। উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের খাড়াভরা গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। গ্রামের জামাই হলেও প্রতারণার শিকার এলাকাবাসী তার বাড়ি কোথায় সেটা জানেন না। সে দীর্ঘদিন থেকে খাড়াভরা গ্রামের শ্বশুড়বাড়ি বসবাস করে আসছিলো। তার শ্বশুড়বাড়ি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছে তাদের গ্রামের জামাই।

খাড়াভরা গ্রামের ছানু মিয়ার কন্যা খাজুর বেগমকে ২০ বছর আগে বিয়ে করে প্রতারক ফয়ছল আহমদ (৩৫)। তাদের কন্যা ও পুত্র সন্তান রয়েছে। ফয়ছল স্ত্রী খাজুর বেগমকে নিয়ে সিএনজি, মোরগের ফার্ম, বিভিন্ন ব্যবসায় পুঁজি খাটানোর কথা বলে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি করে ঋণ নেয়। সবাইকে তিন মাসে দ্বিগুণ লাভসহ টাকা ফেরৎ দেয়ার অঙ্গিকার করে। গ্রামের লোকজন কেউ কেউ তার বাড়ি গোয়াইনঘাট আবার কেউ জৈন্তাপুর উপজেলায় বলে জানেন।

জানা যায়, ফয়ছলের প্রতারণার শিকার হয়েছেন খাড়াভরা লুতই মিয়া, বুরহান উদ্দিন, রহিম উদ্দিন, খয়রুন নেছা, মায়ারুন নেছাসহ ২৫/৩০ জন। সবার কাছ থেকে  সে অন্তত দশ লাখ টাকার বেশি টাকা হাতিয়ে পালিয়েছে। সম্প্রতি তার পালানোর বিষয় প্রচার হলে প্রতারণা শিকার লোকজন ফয়ছলের শ্বশুড় বাড়ি খোঁজ নেন। সেখানে তার কোন সন্ধান না পেয়ে বিভিন্ন জায়গা খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এ ঘটনায় গ্রামে হৈচৈ পড়েছে। কেউ কেউ ফয়ছলের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজনকে হুমকি দিয়েছেন।

প্রতারণা শিকার খাড়াভরা গ্রামের বুরহান উদ্দিন বলেন, সিএনজি কিনবে বলে আমার কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছে ফয়ছল। এখন তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বেশ কয়েকদিন হলো তার স্ত্রীসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজনও তার খবর জানেন না। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ। তিনি মামলা করবেন বলে জানালেও ফয়ছলের পিত্রালয় কোথায় তা জানেন না।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউপি সদস্য শেফা বেগম বলেন, এ রকম ঘটনার খবর শুনেছি। এ নিয়ে গ্রামের কেউ আমাদের সাথে আলাপ কিংবা অভিযোগ জানায়নি।

বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। থানায় এরকম কোন অভিযোগ কেউ করেনি।