বিয়ানীবাজারে রোপা আমনের বাম্পার ফলনে প্রান্তিক চাষীদের মুখে ফুটেছে অমলিন হাসি। মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ধান। দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের ঢেউ আর ম ম গন্ধে ভরে উঠেছে মাঠের আল থেকে কৃষকের গোলা। পোকামাকড়ের আক্রমণ ও বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই না থাকায় সোনালি ধানে ভরে গেছে মাঠ। ফুটেছে কৃষকের মুখে হাসি- এ কথা জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রান্তিক চাষীদের সাথে কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকায় এ সাফল্য এসেছে।

সরজেমিন উপজেলার বিভিন্ন ধানক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া মাঠ সেজেছে সবুজ ও হলুদ রংয়ে। ধানের গন্ধে ভরে উঠছে গ্রামীণ জনপদ। মাঠজুড়ে কৃষকের ফলানো সোনারং ধানের ছড়াছড়ি। রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় বিয়ানীবাজারের চাষিরা বেশ খুশি। দলবদ্ধভাবে জমিতে ধান কাটা ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও মজুররা। তবে মাঠ থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছেন না অনেকেই। মাঠে থাকা পাকা ধান কাটাতে হচ্ছে বেশি টাকায় শ্রমিকদের দিয়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৯শত ৮০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উপজেলায় ৯ হাজার ১শত ৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

ফসলের পরিচর্যা থেকে শুরু করে মাঠ থেকে ফসল কেটে আনতে লোকবল সংকট থাকায় দ্বিগুণ মজুরি গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের বাহার উদ্দিন  বলেন, আগাম ধান লাগানোর কারণে আমার ফসলে কোন ধরনের পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। এবারের ফলন অন্যান্যবারের তুলনায় ধান ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে ফসল ঘরে তুলতে হচ্ছে। একই এলাকার ইদ্রিছ আলী বলেন, এবারের ফসলে পোকার আক্রমণ না করতে সঠিক সময়ে পোকা দমননাশক ব্যবহার, সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যা করায় ভালো ফলন হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান জানান, গেল বছরের তুলনায় এ বছর রোপা আমন ধানের মাঠ ভালো অবস্থানে রয়েছে। রোগ-বালাই ও পোকার উপদ্রব প্রতিরোধে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়ায় এর সাফল্য মাঠ ভর্তি  ধান। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহযোগিতা করেছেন। তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন বলেই কোন প্রতিকুলতায় পড়তে হয়নি।