বিয়ানীবাজারের লাউতায় প্রতিবেশির মালিকানাদীন রাস্তায় গেট নির্মাণ ও তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন গ্রামের একটি অংশের মানুষ। তাদের দাবি, মসজিদে যাতায়াতকৃত রাস্তা থেকে গেট অপসারণ করা। কিন্তু রেকর্ডভুক্ত জায়গার মালিকরা সে দাবি প্রত্যাখান করায় জটিলতা তৈরী হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নাধীন গোলাটিকর গ্রামের জামে মসজিদে যাবার একটি রাস্তাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সৃষ্ঠ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় গ্রামে অভ্যন্তরিক কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর জের ধরে একটি পক্ষ ঈদের নামাজ বাড়িতে আদায় করে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, গোলাটিকর গ্রামের মধ্যখানে অবস্থিত জামে মসজিদ। শতবর্ষী এ মসজিদে গ্রামের মানুষজন নামাজ আদায় করে আসছেন। মসজিদের পাশে গ্রামের প্রয়াত মুরব্বী কুটু মিয়ার বাড়ির সম্মুখে এই রাস্তার অবস্থান। রাস্তার জায়গা কুটু মিয়ার পরিবারের হলেও গ্রামের দক্ষিণ অংশের মানুষ মসজিদে যাতাযাতের জন্য এটি একমাত্র রাস্তা। গেট নির্মাণে আপত্তি দেয়া গ্রামের দক্ষিণ অংশের বাসিন্দাদের দাবি- যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি মৌখিকভাবে দান করেছেন প্রয়াত কুটু মিয়ার পরিবার। কিন্তু ৭ মাস পূর্বে কুটু মিয়ার পুত্র এনাম উদ্দিন দৌলা মিয়া নিজেদের রেকর্ডকৃত জায়গায় গেট নির্মাণ করেন। গেট নির্মাণে দক্ষিণ অংশের মানুষ আপত্তি দিলে দেখা দেয় বিপত্তি। আপত্তি না মেনে দৌলা মিয়া গেট নির্মাণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর এক পর্যায়ে দৌলা মিয়া গেটে তালা লাগিয়ে দেন বলে প্রতিপক্ষরা অভিযোগ করেন।

গ্রামের মুরব্বীদের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক বসে সাময়িক গেটের তালা খুলে দিলেও দক্ষিণ অংশের লোকজন তাতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেন। ফলে মসজিদে যাতায়াতের বিকল্প রাস্তা না থাকায় এবং স্থায়ীভাবে গেট নির্মাণের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া দক্ষিণ অংশের বাসিন্দারা মসজিদে যাতায়াত থেকে বিরত রয়েছেন। এ অবস্থায় আজ ঈদের নামাজ তারা বাড়িতে আদায় করেন।

গ্রামের দক্ষিণ অংশের বাসিন্দারা ময়নুল হোসেন বাচ্চু’র বাড়িতে ঈদের জামায়াত আদায় করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এনাম উদ্দিন দৌলা মিয়া বলেন, আমার বাড়ির উপরে, মধ্যখানে এবং শেষ মাথায় তিনটি গেট ছিল। রাতের বেলা এ রাস্তা দিয়ে বাইরের লোকজন মোটর সাইকেল নিয়ে চলাচল করার কারণে গ্রামবাসী মধ্যখানের বাঁকা গেট সরিয়ে শেষ মাথায় গেট স্থাপন করতে বলেছিলেন। গেট নির্মাণ করার সময় পরে একটি বাড়ির মানুষজন ঝামেলা করেছেন। তিনি বলেন, গেটের আমি কখনো তালা দেই নাই, গ্রামের প্রত্যেক মানুষকে জিজ্ঞেস করলে এর সত্যতা পাবেন। তিনি আগামী ১৫ জুলাই দেশে আসছেন বলে জানান।