মহান মুক্তিযুদ্ধে একই পরিবারের তিন ভাই সরাসরি অংশ নেন এবং অপর দুইজন শহীদ হন। গর্বিত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি  ধরে রাখতে বাড়ি সামনে স্মৃতি ফলক স্থাপন করেছেন তাদের উত্তরসূরীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে এ স্মৃতি ফলকের উদ্বোধন করেন মর্টার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হাজী ছমির উদ্দিন।

বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ির সামনে এ স্মৃতি ফলকের উদ্বোধন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি বিজড়ীয় এ বাড়ির সন্তান বাবরুল হোসেন বাবুল মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সাবসেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দুই ভাই নুরুল হুদা ও আবুল হোসেন শহীদ হন। চাচাতো ভাই হাজী ছমির উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে মর্টার কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। আরেক চাচাতো ভাই এম এ মতিন ছিলেন ফ্রিডম ফাইটার।

মর্টার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ছমির উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহবানে আমরা একই পরিবারের তিনভাই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেই। আমাদের দুইভাই পাক সেনার বোমা ও গুলিতে শহীদ হন। কিন্তু এতো ত্যাগের পর দেশ স্বাধীন হলেও দেশের মানুষের মুক্তি এখনো মেলেনি। এখনো স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা সুযোগ পেলেই পরাজয়ের বদলা নেয়।

ছমির উদ্দিনের ভাতিজা নরুল আলম বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে একই বাড়ি বা একই পরিবারের এতোজন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেয়ার নজির নেই। তাদেরকে আগামী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে রাখতে আমরা স্মৃতি ফলক স্থাপন করেছি।

স্মৃতি ফলক উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজন প্রবীন শিক্ষক এম এ হাসিব, হাজী বুরহান উদ্দিন, শিক্ষক এতোয়ার হোসেন, ফরহাদ হোসেন, ব্যবসায়ী আব্দুল মালীক, কাওছার আহমদ প্রমুখ।