বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের সরল অনুভূতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন বা ভবন নির্মাণের কথা বলে টাকা আদায় করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে ধর্মীয় লেবাসধারী কয়েকটি প্রতারক চক্র। রমজান এলেই এই চক্র যেন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। আজ সোমবার (২৮শে মে) দুপুরে পৌরশহরের আজির প্লাজায় হাফিজ মোহাম্মদ আলী (২৮) ও ক্বারী ইউসুফ আলী (১৯) নামে এমনি দুজন প্রতারককে ধরে ফেলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা।

জানা যায়, সোমবার দুপুরের দিকে বড়লেখা উপজেলার জামেয়া ইসলামীয়া কাঁঠালতলী টাকি মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা নামক একটি প্রতিষ্ঠানের হিফজখানা ও এতিমখানার নামে চাঁদা তুলতে এলে পৌরশহরের আজির প্লাজার কিছু ব্যবসায়ি কৌতূহলবশত ওই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কারও মোবাইল নাম্বার চাইলে প্রতারক ইউসুফ আলী একটি ভুল মোবাইল নম্বর দেয়। সন্দেহ হলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে দ্রুত বেগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপরই তাদের কাছে ধরা খেয়ে প্রকাশ পায় তাদের মাদ্রাসার নামে চাঁদাবাজির ব্যবসা।

বড়লেখা উপজেলার জামেয়া ইসলামীয়া কাঁঠালতলী টাকি মহিলা টাইটেল মাদ্রাসার ঠিকানা ব্যবহার করে এতোদিন ওই দুই প্রতারক রশিদ বইয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করে যাচ্ছিল সে নামের কোন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান আছে কি নেই তারা তা ঠিক জানে না। পরে অবশ্য প্রতারকদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী সব স্বীকার করে জানায়, বিগত ২ বছর যাবৎ তারা এই প্রতারণার ব্যবসা করে আসছে। আসলে ওই নামে কোন প্রতিষ্ঠানই আছে কি নেই তারা তা জানে না। সারাবছরের বিভিন্ন সময় বড়লেখা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ  উপজেলায়ন বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার নামে এই চাঁদা আদায় করে থাকে যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন নির্বাহে ব্যয় করে থাকে। প্রতিদিন এই প্রতারণার মাধ্যমে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে বলেও জানায় ওই প্রতারক।

আটক হওয়ার পর দুই প্রতারক তাদের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিনভাগ এলাকায় বলে জানায়। এসময় স্থানীয় ব্যবসায়িরা দুই প্রতারকের দেয়া ঠিকানাটাও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন। পরে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়িরা তাদেরকে পুলিশে দিতে চাইলে দুই প্রতারক সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এ ধরনের কাজ করবে না বলে কথা দিলে কয়েকজন ব্যবসায়ি ও ক্রেতাদের অনুরোধে ছেড়ে দেয়া হয়।