বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সাথে মত বিনিময় সভায় নিজেকে রাজাকার বলে আখ্যায়িত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া। আজ বুধবার মতবিনিময় সভায় তার সাত মিনিটের বক্তব্যের মধ্যখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে লিফ্ট স্থাপনের দাবি জানানোর সময় তিনি প্রসঙ্গক্রমে নিজেকে রাজাকার বলেন।

আব্দুল হাসিব মনিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা সবাই বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। অনেকেই মরে গেছেন, অনেকে মরেও যাবেন। আমার বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা কলাসহ অনেকে  মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের তিন তলায় অফিসেরি সিঁড়ি উঠতে পারে না।  সবারই বয়েস ষাটের উপরে। তিনি বলেন, আমি ছয়দফা থেকে আওয়ামী লীগ করি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক পর্যায়ে আটকা পড়ি, পরে রাজাকার হয়েছি।

তার বক্তব্যের মধ্যখানে নিজেকে রাজাকার বলায় সভায় উপস্থিতিদের মধ্যে মৃদু হাসির রব উঠে।

আব্দুল হাসিব মনিয়া তার বক্তব্যে বিয়ানীবাজারের নানা সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুক্তিযযুদ্ধে পূর্বে লিল্লার ভাউছারে আমাদের কিছু মানুষ লন্ডন যান, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মিডিলিস্ট গেছেন অনেক মানুষ। যার কারণে দেশের সব স্থানে বিয়ানীবাজার ধনী এলাকা হিসাবে আখ্যায়িত হয়। এখানে ধনীদের কারণে অতি গরিবের লোকের বসবাস রয়েছে। যার কারণে প্রধান অতিথি ও সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আগামীতে টিআর-কাবিখা প্রদানে যেন বিয়ানীবাজারের দিকে বেশি দৃষ্টি দেয়া হয়। মনিয়া বলেন, বিন্না বনের কারণে বিয়ানীবাজারের ৫ ইউনিয়ন কৃষি জমি আবাদ করা যাচ্ছে না। এসব জমি আবাদের ব্যবস্থা করলে আমাদের উপকার হয়। তিনি বলেন, ইন্ডিয়ার কমলা আর ময়মনসিংহের সবজি আমাদের খেতে হচ্ছে। কৃষি ক্ষেতে ব্যয় বেশি হওয়ায় কৃষকরা আবাদ করছেন না- বিভাগীয় কমিশনারকে এ বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

মতবিনিময় সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম।