বিয়ানীবাজারে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৬৭জন। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা আগ্রহ অনেকটা কমে গেছে। নেহায়েত বাধ্য হয়ে যারা নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন তাতেই শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার ১ শতাংশেরও কম। এখানকার প্রাত্যহিক চিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই যে- সর্বশেষ ১২ দিনে বিয়ানীবাজারে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৫জন এবং মারা গেছে দুইজন।

বিয়ানীবাজারে গত ২৪ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলেও জুন-জুলাই মাসের শুরু থেকে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। উপজেলায় করোনা শনাক্তের প্রায় ৬ মাসে ৩৬৭ জন রোগীর মধ্যে এপ্রিল মাসে ২জন, মে মাসে ৯জন, জুন মাসে ৯১জন, জুলাই মাসে ১২৭জন, আগস্ট মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪জন। আর সর্বমোট ১৯ মৃত্যুর মধ্যে দুইজনই মারা গেছেন এই মাসের প্রথম ১২ দিনের মধ্যেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজারে দিন দিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ছিল ২২৯জন, সুস্থ ১৪৪ জন ও মৃত্যু ১১জন। কিন্তু গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯২জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৬জন ও সুস্থ হয়েছেন ৭৪জন। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪৫জন, মারা গেছেন ২জন ও সুস্থ হয়েছেন ৭জন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৭জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৫১জন, মারা গেছেন ১৯জন ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৩জন রোগী। উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার ১ শতাংশেরও কম। মৃত্যুর হার ৫.১৮ শতাংশ থাকলেও কমেছে সেরে উঠার হার। বর্তমানে সুস্থতার হার ৬৮.৩৯ শতাংশ।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পৌরশহরসহ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চলছে প্রশাসনের সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম। কিন্তু এরপরও মাস্ক ব্যবহারের উপর গুরুত্ব নেই অধিকাংশ মানুষের। হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছেন না বা করলেও সঠিকভাবে সেটি ব্যবহার হচ্ছে না। শনিবার পৌরশহর ঘুরে দেখা যায়, শহরে আসা প্রায় ৬০ ভাগেরও বেশি মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। আর প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও তারা সঠিকভাবে করছেন না।

তবে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে প্রশাসন বলছে, মানুষ যাতে করোনায় সংক্রমিত না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মাস্ক ব্যবহারের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শতভাগ মাস্ক ব্যবহারের জন্য কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে করে সকল মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে। আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলোতে সচেতনতার মাধ্যমে সকলে মাস্ক ব্যবহার করবে। আর শতভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলে করোনার যে সংক্রমণ তা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনার নমুনা পরীক্ষা‍য় মানুষের আগ্রহ অনেকটা কমে গেছে। নেহায়েত বাধ্য হয়ে যারা নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন তাতেই শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে করোনা পরীক্ষায় সরকারিভাবে ফি নির্ধারণ এবং মানুষের অচেতনতাকেই দায়ী করছেন তারা। অন্যদিকে, আক্রান্তদের মধ্যে তবে যারাই সুস্থ হচ্ছেন তাদের বিষয়ে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্বাস্থ্য বিভাগের দিক থেকে রোগীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, সার্বক্ষণিক ফলোআপ করা, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের জটিল কোনো উপসর্গ না থাকা করোনা রোগীরা দ্রুত সেরে উঠছেন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজার থেকে অপহরণ করে পালানোর সময় ৫ অপহরণকারি আটক, গাড়ি জব্দ