বিয়ানীবাজারে ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে সাময়িক লাভবান হওয়ার আশায় জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পাবে এবং মাটি কেটে নেওয়া এসব ফসলি জমির উর্বরতা ফিরে পেতে কমপক্ষে ১০ বছর লেগে যাবে বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

উপজেলার ১২টি ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে ফসলি জমির উর্বর মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্সক্যাভেটর দিয়ে এসব জমির মাটি কেটে অর্ধশত ট্রাক্টর সেই মাটি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জিত হচ্ছে, বলে অনেক কৃষকই সাময়িক লাভের আশায় নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে ফেলছেন। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ। উপজেলা প্রায় সবর্ত্রই নির্বিকারে এমন কর্মকাণ্ড চললেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে- দুবাগ, কুড়ারবাজার, শেওলা, চারখাই, আলীনগর, লাউতা, মুড়িয়া ও তিলপারা ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উর্বর অংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। আবার অনেকেই নিম্নাঞ্চল ও যাতায়াত সড়ক ভরাট করতে এসব মাটি ব্যবহার করছেন। কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কিনে নিচ্ছে।

কথা হলো মুড়িয়া ইউনিয়নের ফরিদ উদ্দিন ও আবুল হাসান নামে দুই কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, জমির ওপরের অংশ থেকে দু-এক ফুট পরিমাণ মাটি তারা বিক্রি করছেন। এতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। জমির মাটি কেটে নিলে ফসল আরও ভালো হবে বলে মনে করেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) হচ্ছে ফসলি জমির প্রাণ। জমির ওপরের ৮ থেকে ১০ ইঞ্চিই হলো ‘টপ সয়েল’। ফসলের জন্য মাটির মূল জৈবশক্তি থাকে টপ সয়েলে। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে জমির উর্বরতা শক্তিই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এভাবে মাটি বিক্রি অব্যাহত থাকলে উপজেলার ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাবে। কৃষকদের সচেতন করতে তাই উপজেলা কৃষি অফিস বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, ফসলি জমির মূল উর্বরা শক্তিই হচ্ছে টপ সয়েল। বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের টপ সয়েল বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষকরা এটি মেনে চলছেন না। তবুও আমরা কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীকে সচেতন করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, স্থানীয় কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী এসব ঘটনার সাথে জড়িত। পাশাপাশি ইটভাটা মালিকরা কাঁচামাল হিসেবে ফসলি জমি থেকে এটেল মাঠি সরবরাহ করে অবৈধ ট্রাক্টর দিয়ে পরিবহণ করে। এতে সড়কের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কগুলোও ক্ষতগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকবার সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলাপ করেছি, কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থার কোন বাস্তবায়ন দেখতে পাইনি। মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন প্রশাসনের। নতুবা শিগগিরই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হবে দেশ।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী মাহবুব বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি না কাটার জন্য আমি বৃহস্পতিবার ভাটা মালিকদের নির্দেশ দিয়েছি। তাছাড়া ট্রাক্টর নয়, ট্রাকে করে পলিথিন মুড়িয়ে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মাটি পরিবহণের জন্যও তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর ব্যত্তয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিটিভির প্রতিবেদন-

স্বপ্ননীড়ে ঠাঁই মিলছে বিয়ানীবাজারের গৃহহীন ৫০ পরিবারের