রাত তখন ১২টা ৪৫ মিনিট, বিদ্যুৎ চলে যায় আসে ঠিক একঘন্টা দশ মিনিট পর রাত ১টা ৫৫ মিনিটে। আবারো ৩টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায় আসানে পৌনে ৪টার দিকে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এভাবে বিদ্যুৎ ভোগান্তির কথা জানান মাথিউরা ইউনিয়নের খলাগ্রামের অধিবাসী আলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, মধ্যরাতে গত দুই সপ্তাহ থেকে এটাই পল্লীবিদ্যুতের রুটিন হয়ে গেছে। দিনের বেলা অসংখ্যবার যাওয়া আসা করে। রাত দিন মিলিয়ে কম করে হলে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অথচ আমরা শোনলাম মাত্র একঘন্টা লোডশেডিং করা হবে।

বিয়ানীবাজারে পল্লীবিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের দুর্বিসহ অবস্থার শুধু মাথিউরা ইউনিয়নে নয়, পৌরসভাসহ পুরো বিয়ানীবাজার উপজেলায় একই অবস্থায়। বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে নাজেহাল আলিম উদ্দিনের মতো আরো অনেকে। গত দুই সপ্তাহ থেকে বিদ্যুতের চরম অবস্থা থেকে উত্তোরণ চান উপজেলাবাসী।

গত জুলাই মাসের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি উত্তরণ এবং ঘাটতি মোকাবেলা করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তখন দায়িত্বশীল বলেছিলেন সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি উত্তরণের চেয়ে অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুসিত বিয়ানীবাজারের অবস্থা খুবই নাজুক।

পৌরশহরের ব্যবসায়ী ছফর উদ্দিন বলেন, গত জুন জুলাই মাসে বিদ্যুতের এতো ভোগান্তি ছিল না গত দুই সপ্তাহ থেকে যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। একই শহরের ফটোস্ট্যাট ব্যবসায়ী এবাদ আহদ বলেন, আজ একটু ভাল হলেও গত দুই সপ্তাহ থেকে আমরা চরমভাবে ভোগছি। এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে দেড় ঘণ্টা থাকে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ হওয়া প্রয়োজন। না হলে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠবে।

বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম ভজন কুমার বর্মণ বলেন, আমন ক্ষেতে সেচ দেয়ার কারণে রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে আমন আবাদের লক্ষামাত্রা অর্জনের জন্য ওই দিকে সেচের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর কারণে অন্যান্য অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, কয়েখ সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ভজন কুমান বর্মণ বলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা। গতকাল শুক্রবার ১২ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।

‌যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ানীবাজারবাসীর আয়োজনে প্রয়াত অধ্যাপক কিবরিয়ার শোক সভা